দীপঙ্কর দোলাই || নয়া জামানা: দীর্ঘ কয়েক বছরের ব্যবধান ঘুচিয়ে ফের ক্ষমতার ভরকেন্দ্র হতে চলেছে মহাকরণের লালবাড়ি। আগামী ২৫ বৈশাখ ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে নতুন সরকারের শপথগ্রহণের সঙ্গেই নবান্ন যুগের অবসান ঘটিয়ে রাজ্য শাসনের মূল কেন্দ্র হতে চলেছে ঐতিহাসিক মহাকরণ বা ‘রাইটার্স বিল্ডিং’। রাজ্য বিজেপি নেতৃত্বের দীর্ঘদিনের প্রতিশ্রুতি মেনেই এবার রাইটার্স থেকেই পরিচালিত হবে বাংলা। নতুন সরকারের আগমনের প্রস্তুতিতে এখন সাজ সাজ রব ডালহৌসি চত্বরে।
বিজেপি ক্ষমতায় আসার পরেই মহাকরণকে প্রশাসনিক সদর দফতর করার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় তৎপরতা শুরু হয়েছে পূর্ত দফতরে। মঙ্গলবার থেকেই মহাকরণের ভেতরে ও বাইরে পরিদর্শন শুরু করেছেন আধিকারিকরা। মূলত রাইটার্স বিল্ডিংয়ের সামনের অংশকে দ্রুত বসার যোগ্য করে তোলার কাজ চলছে।
সূত্রের খবর, মুখ্যমন্ত্রীর দফতর কোথায় হবে এবং অন্যান্য মন্ত্রীদের জন্য কোন ব্লক বরাদ্দ করা হবে, তার নীলনকশা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। নিরাপত্তার বিষয়টি খতিয়ে দেখতে পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসতে পারেন পিডব্লিউডি-র আধিকারিকরা। খোদ মুখ্যসচিবের মহাকরণ পরিদর্শনে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন পর রাইটার্সের বারান্দায় ফের আমলা ও ভিআইপিদের ব্যস্ততা দেখার অপেক্ষায় প্রশাসনিক মহল।
বিদায়ী তৃণমূল সরকার গঙ্গার ওপারে হাওড়ার ‘নবান্ন’ থেকে প্রশাসনিক কাজ পরিচালনা করত। কিন্তু বিজেপির দাবি, নবান্ন থেকে নয়, কলকাতার ঐতিহ্যবাহী মহাকরণ থেকেই পরিচালিত হবে বাংলা। রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য স্পষ্ট জানিয়েছেন,
“আমাদের সরকার নবান্ন থেকে নয়, রাইটার্স থেকে পরিচালনা হবে। এটা আমরা নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির সময় থেকেই বলে এসেছিলাম।”
রাজ্যে বিপুল জয়ের পর পরিষদীয় দলনেতা তথা পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচন নিয়ে চূড়ান্ত গোপনীয়তা বজায় রেখেছে গেরুয়া শিবির। সাধারণত এই প্রক্রিয়াটি রাজ্যের জয়ী বিধায়কদের ওপর ছেড়ে দেওয়া হলেও, বাংলার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব কোনও ঝুঁকি নিতে নারাজ। রীতি ভেঙে এই প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে কলকাতায় আসছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।সূত্রের খবর, মঙ্গলবার রাত কলকাতায় পা রাখছেন শাহ। তাঁর সঙ্গে থাকতে পারেন ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহনচরণ মাঝিও। নবনির্বাচিত বিধায়ক ও রাজ্য নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকের পরই সিলমোহর পড়বে নতুন মুখ্যমন্ত্রীর নামে। ৯ মে, অর্থাৎ ২৫ বৈশাখ ঐতিহাসিক ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে এই শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হবে।শপথগ্রহণের আগে ব্রিগেডে যেমন প্রস্তুতি চলছে, তেমনই মহাকরণে পুলিশি নিরাপত্তার রূপরেখা ঢেলে সাজানো হচ্ছে। দীর্ঘকাল ব্যবহৃত না হওয়ায় ভবনটির যে অংশগুলি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেগুলি সংস্কারের জন্য প্রাথমিক পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে। ২৫ বৈশাখ প্রশাসনিক কেন্দ্রবিন্দু বদলে যাওয়ার সাক্ষী থাকতে চলেছে তিলোত্তমা।