নয়া জামানা ডেস্ক : বঙ্গে ১৫ বছরের তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটতেই নবান্নে শুরু হয়েছে আমলা ও উপদেষ্টাদের মহাপ্রস্থান। ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনে গেরুয়া ঝড়ে শাসকদলের শোচনীয় পরাজয় নিশ্চিত হতেই প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক স্তরের একাধিক শীর্ষ পদাধিকারী ইস্তফা দিয়েছেন। মঙ্গলবার জোড়া পদ ছেড়েছেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অভিরূপ সরকার। একই পথে হেঁটে পদত্যাগ করেছেন মুখ্যমন্ত্রীর দুই হেভিওয়েট মুখ্য উপদেষ্টা আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় ও হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদী। নির্বাচনী ফলে দেখা যাচ্ছে, ২০৭টি আসন নিয়ে রাজ্যে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে বিজেপি। অন্যদিকে, তৃণমূলের আসন সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৮০-তে। উত্তর থেকে দক্ষিণ— সর্বত্র ঘাসফুল শিবিরের বিপর্যয়ের পরেই এই পদত্যাগের পালা শুরু হয়। নবান্ন সূত্রে খবর, মঙ্গলবার ইস্তফাপত্র ইমেল করেছেন অভিরূপ সরকার। তিনি রাজ্যের শিল্প উন্নয়ন নিগম এবং স্মল ইন্ডাস্ট্রিজ ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন লিমিটেডের চেয়ারম্যান পদে ছিলেন। ২০১৩ সালে গঠিত চতুর্থ অর্থ কমিশনেরও নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তিনি। একসময় দীনেশ ত্রিবেদীর ছেড়ে যাওয়া রাজ্যসভা আসনেও তাঁর নাম চর্চায় এসেছিল।পরিবর্তনের আবহে বিদায় নিচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রীর ছায়াসঙ্গী হিসেবে পরিচিত অবসরপ্রাপ্ত আমলারাও। প্রাক্তন দুই মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় ও হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদী তাঁদের মুখ্য উপদেষ্টা পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। নবান্নের একটি সূত্র জানাচ্ছে, মুখ্যমন্ত্রীর প্রিন্সিপাল সচিব মনোজ পন্থও ইস্তফা দিয়েছেন। যদিও মঙ্গলবার বিকেলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেছেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে তিনি ইস্তফা দেবেন না।’ তবে ওই ঘোষণার আগেই বিশেষ পদাধিকারী আমলারা সরে দাঁড়িয়েছেন। এর আগে সোমবার পরাজয় স্পষ্ট হতেই ইস্তফা দিয়েছিলেন অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্ত। রাজ্য সরকারের এক আধিকারিকের মতে, এই পদগুলি সাধারণত শাসকদলের আস্থাভাজনদের জন্য সংরক্ষিত থাকে। ক্ষমতার হাতবদলের সন্ধিক্ষণে তাই নৈতিক কারণেই এই প্রস্থান। ছবিতে ছবিতে (বাঁ দিকে) আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় এবং হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদী (ডান দিকে)।