নয়া জামানা ডেস্ক : নবান্নের মসনদ বদলেছে। উত্তর থেকে দক্ষিণ এখন সর্বত্র বইছে পরিবর্তনের হাওয়া। এই প্রবল ঝড়ে তৃণমূলের ঘর ভাঙার উপক্রম হলেও এখনই ‘বেনোজল’ ঘরে তুলতে নারাজ বিজেপি নেতৃত্ব। দলবদলের হিড়িক রুখতে সংগঠনের সব স্তরে কড়া বার্তা পাঠাল গেরুয়া শিবির। স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, অন্য দল থেকে আপাতত কাউকেই নেওয়া যাবে না। যদিও বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাল্টা অভিযোগ, তাঁর দলের লোকজনকে বিজেপিতে যেতে ‘চাপ’ দেওয়া হচ্ছে। ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকেই ছবিটা বদলে গিয়েছে। ২০০-র বেশি আসন নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। আর তৃণমূল ক্ষমতা হারাল। ফল ঘোষণার আগে থেকেই অবশ্য হাওয়া বুঝতে পেরেছিলেন শাসক শিবিরের নীচুতলার নেতারা। দ্বিতীয় দফার ভোটের পরেই জেলায় জেলায় বিজেপি নেতাদের ফোন করতে শুরু করেন তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্য থেকে কাউন্সিলররা। ৪ মের পর বিজেপির দরজা খোলা রাখার আর্জি আসছিল ভুরি ভুরি। বিজেপি নেতাদের দাবি, তৃণমূল যে হারছে সেটা তাঁদের নেতারাই টের পেয়েছিলেন। যদিও মমতা ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার ২০০-র বেশি আসনে জেতার দাবি করেছিলেন। কিন্তু ফল বলছে, সেই দাবি ছিল নেহাতই কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করার চেষ্টা। বিজেপি নেতৃত্বের আশঙ্কা, যাঁদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে মানুষ পদ্ম চিহ্নে ভোট দিলেন, তাঁদেরই যদি তড়িঘড়ি দলে নেওয়া হয়, তবে হিতে বিপরীত হতে পারে। রাতারাতি তৃণমূলের নেতারা বিজেপিতে ঢুকে ‘মাতব্বর’ হয়ে উঠলে জনতা ক্ষুব্ধ হবে। সেই জনরোষ এড়াতেই আপাতত যোগদানে ‘নিষেধাজ্ঞা’ জারি হয়েছে। এই প্রসঙ্গে রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য সাফ জানিয়েছেন, ‘যোগদান করানো একদম বন্ধ! অন্য কোনও দল থেকে আপাতত কাউকে বিজেপিতে নেওয়া যাবে না। সংগঠনের প্রত্যেকটি স্তরে আমরা সে বার্তা পাঠিয়ে দিয়েছি।’ একই সুর শোনা গিয়েছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারের গলায়। তিনি জানিয়েছেন, ‘কেউ কখনও যোগ দিতে পারবেন কি না, দল সে সব পরে স্থির করবে। কিন্তু আপাতত কাউকেই নেওয়া হচ্ছে না। পরবর্তী নির্দেশ না-যাওয়া পর্যন্ত সব যোগদান বন্ধ।’ রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জয়ের পর সংগঠনের স্বচ্ছতা বজায় রাখাই এখন বিজেপির প্রধান চ্যালেঞ্জ। তাই তাড়াহুড়ো করে দরজা খুলে বিতর্কে জড়াতে চাইছে না নবনির্বাচিত শাসক দল। আপাতত নিজেদের ঘর গুছিয়ে নিয়ে জনমানসে স্বচ্ছ ভাবমূর্তি ধরে রাখাই তাঁদের লক্ষ্য। তৃণমূলের বিক্ষুব্ধদের ভিড় তাই আপাতত বিজেপির সদর দরজার বাইরেই দাঁড়িয়ে থাকছে। গেরুয়া শিবিরের এই কড়া অবস্থানে অস্বস্তি বেড়েছে দলবদল করতে চাওয়া নেতাদের শিবিরে। ফাইল ফটো।
উত্তরবঙ্গে তৃণমূলের শক্তি প্রদর্শন, ২৪শে মার্চ তিন জেলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মেগা জনসভা