নয়া জামানা ডেস্ক : তৃণমূলকে ধরাশায়ী করে দু’শোর বেশি আসনে জিতে নবান্ন দখলের পর এ বার আগামীর রূপরেখা স্পষ্ট করলেন শুভেন্দু অধিকারী। ফলপ্রকাশের পরের সকালেই পশ্চিমবঙ্গবাসীর কাছে তিনি অঙ্গীকার করলেন এক ‘উন্নত, সমৃদ্ধ ও নিরাপদ’ রাজ্যের। মঙ্গলবার সকালেই সমাজমাধ্যমে নিজের এবং দলের লক্ষ্যস্থির করে দিয়েছেন ভবানীপুর ও নন্দীগ্রামের জয়ী বিধায়ক। শুভেন্দু র স্পষ্ট বার্তা, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে ‘বিকশিত ও আত্মনির্ভর’ পশ্চিমবঙ্গ গড়াই বিজেপির প্রধান লক্ষ্য। প্রতিটি রাজ্যবাসীর সেবা করাই হবে নতুন সরকারের একমাত্র ব্রত।
বিজেপির এই অভাবনীয় জয়ের পর নতুন মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন, তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। ভোটের ময়দানে দল কোনো নির্দিষ্ট মুখ সামনে না আনলেও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বার বার আশ্বাস দিয়েছিলেন, বাংলার ভূমিপুত্রই বসবেন মসনদে। অমিত শাহ আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, খাস বাঙালি এবং বাংলা মাধ্যমে শিক্ষিত কাউকেই বেছে নেবে দিল্লি। এই দৌড়ে শুভেন্দু অধিকারীর নাম সবথেকে জোরালো ভাবে আলোচিত হচ্ছে। পরপর দু’বার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করে তিনি নিজের গুরুত্ব প্রমাণ করেছেন। পাশাপাশি দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যকে ঘিরেও আলোচনা রয়েছে রাজনৈতিক মহলে। আবার উত্তরবঙ্গকে বাড়তি গুরুত্ব দিতে সেখান থেকেও কোনো তৃতীয় মুখ উঠে আসতে পারে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
এই জল্পনার আবহেই শুভেন্দু এদিন সমাজমাধ্যমে লেখেন, ‘বিজেপির অঙ্গীকার এক উন্নত, সমৃদ্ধ ও নিরাপদ পশ্চিমবঙ্গ। আমরা আমাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে বদ্ধপরিকর। সকলকে সঙ্গে নিয়ে আমরা গড়ে তুলব একটি সুস্থ, সুন্দর এবং উন্নত রাজ্য। রাজ্যবাসীর সেবা করাই হবে নতুন সরকারের প্রধান লক্ষ্য।’ শুভেন্দু এই জয়কে উৎসর্গ করেছেন প্রত্যেক দেশপ্রেমিক রাষ্ট্রবাদী এবং বিজেপি কার্যকর্তাদের চরণে। ভোটপ্রক্রিয়া সুষ্ঠু ভাবে মেটানোর জন্য নির্বাচন কমিশন থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও রাজ্য পুলিশকেও ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার সন্ধ্যায় দিল্লির সদর দফতর থেকে বিজয় ভাষণেই প্রধানমন্ত্রী মোদী বুঝিয়ে দিয়েছিলেন, দেশের উন্নয়নের স্বার্থেই ‘বিকশিত বাংলা’ প্রয়োজন। মোদীর সেই সুর টেনেই শুভেন্দু এদিন জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় সরকারের লক্ষ্যপূরণে পশ্চিমবঙ্গ তাল মিলিয়ে চলবে। বাংলার মানুষের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে এক নতুন ভোরের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।
প্রসঙ্গত,সোমবার সন্ধ্যায় দিল্লির সদর দফতর থেকে বিজয় ভাষণেই প্রধানমন্ত্রী মোদী বুঝিয়ে দিয়েছিলেন, দেশের উন্নয়নের স্বার্থেই ‘বিকশিত বাংলা’ প্রয়োজন। ওইদিন মোদী ধুতি-পাঞ্জাবি পরে পুরোদস্তুর বাঙালি সাজে হাজির হয়েছিলেন। প্রায় পৌনে এক ঘণ্টার বক্তৃতায় পশ্চিমবঙ্গের জন্য ছিল তাঁর বিশেষ বার্তা। মোদী স্পষ্ট করে দেন, ভারতের উন্নয়নের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে তাল মিলিয়ে চলবে পশ্চিমবঙ্গ। বক্তৃতার সময়ে পশ্চিমবঙ্গ থেকে রাজনৈতিক হিংসা এবং অশান্তি দূর করারও কড়া বার্তা দেন প্রধানমন্ত্রী। মোদী বলেন, ‘পশ্চিমবাংলায় রাজনৈতিক হিংসায় অনেক জীবন নষ্ট হয়েছে। এ বার বদলা নয়, বদলের কথা হবে। ভয় নয়, ভবিষ্যতের কথা হবে।’ পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে এই প্রথম বার ভয়ের বদলে গণতন্ত্রের জয় হল বলেও মনে করছেন তিনি।
এদিকে দলের অন্দরে মুখ্যমন্ত্রী পদ নিয়ে জল্পনা থাকলেও, শুভেন্দুর এই ঘোষণা আদতে নতুন সরকারের ব্লু-প্রিন্ট বলেই মনে করছে রাজনৈতিক বৃত্ত। জনসেবাকেই যে বিজেপি হাতিয়ার করতে চাইছে, তা শুভেন্দুর কথাতেই পরিষ্কার। রাজ্যবাসীর আশীর্বাদ মাথায় নিয়ে এ বার প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত পদ্মশিবির। এক নতুন রাজনৈতিক ইতিহাসের সাক্ষী হতে চলেছে গোটা পশ্চিমবঙ্গ। আগামী দিনে বাংলার শাসনভার ও উন্নয়নের গতিপথ কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা দেশের নজর। বঙ্গ রাজনীতির অন্দরে শুভেন্দুর এই পোস্ট কার্যত নতুন মন্ত্রিসভার শপথের প্রথম সুর বলেই মনে করা হচ্ছে। ফাইল ফটো।
থামেনি চক্ষুদানের অঙ্গীকার! স্বামীর মৃত্যুবার্ষিকীতে স্ত্রীর নজির গড়া সিদ্ধান্ত