নয়া জামানা, কলকাতা : অরূপ বিশ্বাসের পরাজয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই মেসি-কাণ্ড নিয়ে রণংদেহি মেজাজে ধরা দিলেন শতদ্রু দত্ত। যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে বিশৃঙ্খলার ঘটনায় অভিযুক্ত ওই ক্রীড়া উদ্যোক্তা এবার সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়লেন প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রীকে। এতদিন কেন মৌনব্রত পালন করেছিলেন, তা নিয়ে মুখ খোলার পাশাপাশি প্রভাবশালী মহলের বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তিনি। স্পষ্ট জানিয়েছেন, পরিবারের নিরাপত্তার খাতিরেই এতদিন মুখ বুজে সব সহ্য করেছিলেন তিনি। রাজনৈতিক পট পরিবর্তন হতেই সব তথ্য ‘ফাঁস’ করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। তৎকালীন মন্ত্রীর হারের একটি ছবি পোস্ট করে সমাজমাধ্যমে শতদ্রু লিখেছেন, ‘তোমার খেলা শেষ, এ বার আমার খেলা শুরু।’ তাঁর দাবি, যুবভারতীর ওই ঘটনার পেছনে বড় কোনও ষড়যন্ত্র ছিল। এমনকি তাঁর সংস্থাকে বিশেষ কার্ড জোগানের জন্য বলপূর্বক চাপ দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। রাজি না হওয়ায় তাঁকে একটি ঘরে আটকে রেখে রীতিমতো ভয় দেখানো হয় বলে বিস্ফোরক দাবি করেছেন শতদ্রু। সরাসরি নাম না নিলেও তাঁর নিশানায় যে অরূপই রয়েছেন, তা একপ্রকার স্পষ্ট। এতদিন কেন তিনি পুলিশের জালে ধরা পড়া বা কারাবাস নিয়ে সরব হননি? শতদ্রুর ব্যাখ্যা অত্যন্ত স্পষ্ট। তিনি জানিয়েছেন, ‘যখন আমাকে জেলে ঢোকানো হল, তখন শুধু আমাকে নয়, আমার পরিবারকেও টার্গেট করা হয়েছিল। আমাকে স্পষ্ট ভাবে বলা হয়েছিল, ‘যদি মুখ খোলো, তোমার ফ্যামিলিকে শেষ করে দেব।’ আমি চুপ ছিলাম আমার পরিবারকে বাঁচাতে। প্রতিদিন, প্রতি রাত এই ভয় নিয়ে বাঁচতে হয়েছিল। আমি সব সয়েছি। কিন্তু এ বার আর নয়। এ বার সত্যি বেরোবে, এ বার সব সামনে আসবে। আমি চুপ থাকব না।’ দীর্ঘ তিন বছরের পরিশ্রমের ফসল লিয়োনেল মেসির ভারত সফর ঘিরে যে বিশৃঙ্খলা হয়েছিল, তার জন্য শতদ্রু নিজেকে বলির পাঁঠা বলে দাবি করেছেন। উল্টে ৫০ কোটি টাকার মানহানির মামলার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি। গত বছর ডিসেম্বরে মেসির যুবভারতী সফরের সময় দর্শকেরা ক্ষোভে ফেটে পড়েছিলেন। হাজার হাজার টাকার টিকিট কেটেও প্রিয় তারকাকে কাছ থেকে দেখতে পাননি ফুটবলপ্রেমীরা। অভিযোগ ছিল, সাধারণ দর্শককে দূরে সরিয়ে মন্ত্রী ও প্রভাবশালীরাই মেসিকে ঘিরে রেখেছিলেন। সেই বিশৃঙ্খলার জেরেই গ্রেফতার হতে হয়েছিল আয়োজক শতদ্রু দত্তকে। ৩৭ দিন হাজতবাসের পর জামিনে মুক্ত হন তিনি। এবার অরূপের হারের পর নতুন করে রণকৌশল সাজাচ্ছেন এই উদ্যোক্তা। সব মিলিয়ে মেসি-কাণ্ডে রাজ্য রাজনীতিতে এখন টানটান উত্তেজনা।