নয়া জামানা, কলকাতা : জয়ের উল্লাস যেন কোনোভাবেই অশান্তির কারণ না হয়, এবার সেই বিষয়ে কড়া অবস্থান নিল বিজেপি। রাজ্যে ভোট-পরবর্তী হিংসা রুখতে মঙ্গলবার বিধাননগরের দলীয় কার্যালয়ে হাইভোল্টেজ বৈঠকে বসেন গেরুয়া শিবিরের শীর্ষ নেতৃত্ব। সেই বৈঠক থেকেই স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে, দলের নাম ভাঙিয়ে কেউ ভাঙচুর বা অশান্তিতে জড়ালে তাঁকে তৎক্ষণাৎ বহিষ্কার করা হবে। একইসঙ্গে রাজ্যের মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিওয়ালাকে বার্তা দিয়ে জানানো হয়েছে, শান্তিরক্ষার খাতিরে পুলিশ যেন রাজনীতির রং না দেখে কড়া পদক্ষেপ করে। রাজ্যের ২৯৩টি আসনের ভোটগণনা শেষে দেখা গিয়েছে ২০৭টি আসনে জিতে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করতে চলেছে বিজেপি। তৃণমূল থমকে গিয়েছে ৮০টিতে। জয়ের পরের দিন সকালেই শমীক ভট্টাচার্য রাজ্যবাসীকে ধন্যবাদ জানান। বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন পরিযায়ী শ্রমিকদের প্রতি। তাঁর কথায়, ‘পরিযায়ী শ্রমিকদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। এত প্রতিকূলতা সত্ত্বেও তাঁরা এত দূর থেকে নিজের গাঁটের কড়ি খরচ করে এসেছেন এবং ভোট দিয়েছেন।’ কিন্তু এই জয়ের আবহেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে অশান্তির খবর আসায় উদ্বিগ্ন নেতৃত্ব। মঙ্গলবার বিধাননগরের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকরাও। সূত্রের খবর, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পরবর্তী পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি রুখতেই এই জরুরি আলোচনা। বৈঠকে প্রতিটি স্তরে শান্তির বার্তা পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়। শমীক বলেন, ‘বিজেপির পতাকা নিয়ে অনেক জায়গায় ভাঙচুর করা হচ্ছে বলে শুনেছি। এর বিরোধিতা করছি। কেউ এমন করলে আমরা তাঁকে দল থেকে বার করে দিতে বাধ্য হব।’ মুখ্যসচিবের উদ্দেশে তাঁর আর্জি, প্রশাসন যেন কোথাও কোনো খামতি না রাখে। শমীক বলেন, ‘প্রশাসনকেও বলতে চাই, কোথাও এমন কোনও হিংসার ঘটনা ঘটলে ব্যবস্থা নিন। কারণ, এই জন্যই বাংলার মানুষ বিজেপিকে বেছে নিয়েছেন। গঙ্গোত্রী থেকে গঙ্গাসাগর পর্যন্ত আমাদের অঙ্গ-বঙ্গ-কলিঙ্গের যে স্বপ্ন ছিল, তা পূরণ হয়েছে। এখন আমাদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে।’ তিনি দলীয় কর্মীদের সতর্ক করে বলেন, ‘দলের কর্মীদের বলতে চাই, শান্তিতে থাকুন। খুশি থাকুন। দল যে দায়িত্ব দিয়েছে, পালন করুন। কিন্তু জয়ের আনন্দে কাউকে আঘাত করবেন না। কারও ভাবাবেগে আঘাত দেবেন না।’ ইতিমধ্যেই অশান্তি রুখতে জয়ী প্রার্থীরা সরাসরি ময়দানে নামতে শুরু করেছেন। পূর্ব বর্ধমানের ভাতারের চিত্রটি এক্ষেত্রে উজ্জ্বল উদাহরণ। সেখানে বিজেপি জেতার পর তৃণমূলের কার্যালয় ভাঙচুরের অভিযোগ উঠতেই মাইকিং শুরু করেন জয়ী প্রার্থী সৌমেন কার্ফা। গাড়ি নিয়ে এলাকায় ঘুরে তিনি দলীয় কর্মীদের সংযত হওয়ার আর্জি জানান। সৌমেন বলেন, ‘বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে চায়। অতি উৎসাহী হয়ে যাঁরা অশান্তি করছেন, তাঁদের সতর্ক করছি। এর পরেও কেউ এই ধরনের কাজ করলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ বিজেপি নেতৃত্ব স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, ক্ষমতার পালাবদলে বদলার রাজনীতি তাঁরা বরদাস্ত করবেন না। সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই প্রশাসনকে পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়ার কথা বলছেন তাঁরা। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং রাজ্যের ভাবমূর্তি রক্ষায় কঠোরতম পদক্ষেপ করার বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে নিচুতলা পর্যন্ত। সব মিলিয়ে, জয়ের আনন্দে উচ্ছ্বসিত কর্মীদের লাগাম টেনে অশান্তিহীন নতুন সরকার গড়াই এখন পদ্ম শিবিরের কাছে সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ।