নয়া জামানা, কলকাতা : পনেরো বছরের মাথায় ফের ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি দেখল বঙ্গভূমি। ঘাসফুলকে সরিয়ে নীল-সাদা প্রাসাদে এবার পদ্মের দাপট। ছাব্বিশের মহারণে বাজিমাত করে বিজেপিকে ক্ষমতায় এনেছেন শুভেন্দু অধিকারী। নিজের গড় নন্দীগ্রামের পাশাপাশি বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও তাঁর খাসতালুক ভবানীপুরে পর্যুদস্ত করেছেন তিনি। জয়ের পরদিনই মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ভবানীপুরের মাটিতে পা রাখলেন শুভেন্দু। তাঁকে দেখতে কার্যত মানুষের ঢল নামে। নেতাকে কাছে পেয়ে কর্মী-সমর্থকরা মেতে ওঠেন অকালহোলিতে। গেরুয়া আবিরে ঢেকে যায় চারপাশ। এবারের নির্বাচনে শুভেন্দুর ঝুলি একেবারে ‘ফুল মার্কস’ ভরা। নন্দীগ্রামে ৯ হাজার এবং ভবানীপুরে ১৫ হাজারেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়ে তিনি প্রমাণ করেছেন নিজের দক্ষতা। সোমবার রাতেই ভবানীপুরবাসীকে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছিলেন, আর মঙ্গলবার সরাসরি হাজির হলেন সেখানে। ২০১১ সালে বাম জমানার অবসান ঘটিয়ে যে পরিবর্তনের ডাক দিয়েছিল বাংলা, পনেরো বছর পর সেই জনতাকেই সাক্ষী রেখে ফের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হল। মাত্র ৭৭ থেকে একলাফে ২০০ আসনের ম্যাজিক ফিগার ছুঁল গেরুয়া শিবির। রাজনৈতিক মহলের মতে, বিজেপির এই অভূতপূর্ব সাফল্যের নেপথ্যে আসল কারিগর কাঁথির শান্তিকুঞ্জের দ্বিতীয় পুত্র। ২০২০ সালে তৃণমূল ত্যাগের পর থেকে দীর্ঘ লড়াই আর বিশ্বাসের মর্যাদা পেয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার ভবানীপুরের কালো মাথার ভিড়ে মিশে গিয়ে শুভেন্দু উপভোগ করলেন সেই জয়ের আনন্দ। যে কেন্দ্রে মুখ্যমন্ত্রীকে হারিয়েছেন, সেখানেই দাঁড়িয়ে রাজ্যবাসীকে ফের একবার ধন্যবাদ জানালেন ছাব্বিশের নির্বাচনের এই আসল ‘বাজিগর’। সমবেত কর্মী-সমর্থকদের উচ্ছ্বাস বুঝিয়ে দিল, বাংলায় এক নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে।