• Home /
  • মহানগর /
  • আজই শাহ বাছবেন বঙ্গের প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী

আজই শাহ বাছবেন বঙ্গের প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী

নয়া জামানা, টিঙ্কু দত্ত: চব্বিশে ওড়িশা,পঁচিশে বিহারের পর এবার ছাব্বিশে বাংলা জয় বিজেপির । ‘অঙ্গ-কলিঙ্গ’ জয়ের পর এবার ‘বঙ্গ-বিজয়’ সম্পন্ন করে সরকার গড়ার তোড়জোড় শুরু করেছে বিজেপি। কিন্তু বাংলার গলি থেকে রাজপথে এখন একটাই প্রশ্ন, কে হচ্ছেন বাংলার নতুন মুখ্যমন্ত্রী?....

আজই শাহ বাছবেন বঙ্গের প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী

নয়া জামানা, টিঙ্কু দত্ত: চব্বিশে ওড়িশা,পঁচিশে বিহারের পর এবার ছাব্বিশে বাংলা জয় বিজেপির । ‘অঙ্গ-কলিঙ্গ’ জয়ের....

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
X
Threads
Telegram

আরও পড়ুন


নয়া জামানা, টিঙ্কু দত্ত: চব্বিশে ওড়িশা,পঁচিশে বিহারের পর এবার ছাব্বিশে বাংলা জয় বিজেপির । ‘অঙ্গ-কলিঙ্গ’ জয়ের পর এবার ‘বঙ্গ-বিজয়’ সম্পন্ন করে সরকার গড়ার তোড়জোড় শুরু করেছে বিজেপি। কিন্তু বাংলার গলি থেকে রাজপথে এখন একটাই প্রশ্ন, কে হচ্ছেন বাংলার নতুন মুখ্যমন্ত্রী? সেই জটিল ধাঁধার জট খুলতে খোদ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আসছেন কলকাতায়। বিধানসভায় বিজেপির পরিষদীয় দলনেতা তথা হবু মুখ্যমন্ত্রী বেছে নেওয়ার গুরুদায়িত্ব তাঁর কাঁধেই সঁপেছে দিল্লির কেন্দ্রীয় সংসদীয় বোর্ড। তাঁর সঙ্গে সহকারী পর্যবেক্ষক হিসেবে থাকছেন ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহনচরণ মাঝি। জানা গেছে, মঙ্গলবার রাতে আসছেন তিনি এবং আজ বুধবার বৈঠক সমস্ত বিধায়কদের নিয়ে। উল্লেখ্য,বিধানসভা নির্বাচনে ২০৭টি আসনে জিতে তৃণমূলের দীর্ঘদিনের মসনদ চুরমার করে দিয়েছে গেরুয়া শিবির। ফলপ্রকাশের চব্বিশ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই পর্যবেক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি জারি করে বিজেপি বুঝিয়ে দিল, বাংলার কুর্সি নিয়ে কোনো হেলাফেলা করতে নারাজ দিল্লি।

সাধারণত কোনও রাজ্যে ভোটের পর পরিষদীয় দলনেতা বাছতে কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক পাঠানো দলের দস্তুর। কিন্তু নরেন্দ্র মোদী সরকারের ‘সেকেন্ড-ইন-কমান্ড’ অমিত শাহকে এই কাজে নিয়োগ করা নজিরবিহীন ও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। নবনির্বাচিত বিধায়কদের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করবেন শাহ। সেই বৈঠকেই সিলমোহর পড়বে পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রীর নামে। কারণ, এবার বিজেপি বিরোধী নয়, সরাসরি শাসকদলের ভূমিকায় বসতে চলেছে। ফলে বিধানসভায় পরিষদীয় দলনেতাই হবেন রাজ্যের পরবর্তী প্রশাসনিক প্রধান। রাজনৈতিক মহলে জল্পনা, আগামী ৯ মে অর্থাৎ ২৫ বৈশাখ কবিগুরুর জন্মদিনে নতুন সরকারের শপথগ্রহণ হতে পারে। যদিও রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য রাখঢাক বজায় রেখে জানিয়েছেন, ‘তারিখ স্থির করবেন কেন্দ্রীয় নেতৃত্বই।’

তালিকায় সবথেকে ওপরের দিকে রয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর নাম। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নন্দীগ্রাম এবং ভবানীপুর— দুই কেন্দ্রেই ধরাশায়ী করেছেন তিনি। পরপর দুবার মমতাকে হারিয়ে তিনি এখন দলের ‘জায়ান্ট কিলার’। তাঁর প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা এবং দীর্ঘ সময় ধরে বিরোধী দলনেতা হিসেবে কাজ করার সুফল তিনি পেতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে। শুভেন্দু ছাড়াও চর্চায় রয়েছেন মেদিনীপুরের ভূমিপুত্র দিলীপ ঘোষ। রাজ্যে বিজেপির শ্রীবৃদ্ধিতে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। যদিও নিজের দাবি প্রসঙ্গে দিলীপের চিরাচরিত মন্তব্য, ‘পার্টি আমাকে টিকিট দিয়েছিল, আমি দলকে একজন এমএলএ দিয়েছি।’ তালিকায় পিছিয়ে নেই বর্তমান রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও। তাঁর নম্র আচরণ এবং সবাইকে নিয়ে চলার ক্ষমতা নেতৃত্বের নজরে রয়েছে। অন্যদিকে, অক্সফোর্ডের প্রাক্তনী তথা বুদ্ধিজীবী মুখ স্বপন দাশগুপ্তের নামও ঘোরাফেরা করছে অন্দরমহলে। রাসবিহারী কেন্দ্রে জয়ের পর তাঁর পাল্লাও বেশ ভারী। তবে বিজেপির ইতিহাস বলছে, অনেক সময় সব হিসেব উল্টে দিয়ে যোগী আদিত্যনাথ বা বিপ্লব দেবের মতো কোনও আনকোরা মুখকেও মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে সামনে আনা হয়। সে ক্ষেত্রে সঙ্ঘের পছন্দই শেষ কথা হতে পারে।

নির্বাচন পর্বে এক মাস বাংলায় কার্যত ডেরা বেঁধেছিলেন অমিত শাহ। ২৯টি জনসভা ও ১১টি রোড শো করে কর্মীদের মনস্তাত্ত্বিক জমি শক্ত করেছিলেন তিনি। বিজেপির ‘সংকল্প পত্র’ থেকে ‘তৃণমূলের বিরুদ্ধে চার্জশিট’ সবটাই ছিল তাঁর মস্তিষ্কপ্রসূত। তাই বাংলার জয়ের অন্যতম কাণ্ডারি হিসেবে সরকার গঠনের রাশও নিজের হাতেই রেখেছেন শাহ। এদিকে পার্শ্ববর্তী রাজ্য অসমে পর্যবেক্ষক করা হয়েছে জেপি নাড্ডাকে। কিন্তু বাংলার জন্য শাহকে পাঠানোর সিদ্ধান্ত বুঝিয়ে দিচ্ছে, ‘মিশন বাংলা’ দিল্লির কাছে কতটা অগ্রাধিকার পাচ্ছে। তৃণমূল মাত্র ৮০টি আসনে থমকে যাওয়ায় বিজেপি এখন একক শক্তিতে বলীয়ান।

এখন দেখার, শাহী জহুরির চোখ শেষ পর্যন্ত কার গলায় জয়ের মালা পরায়। বিরোধী নেত্রীর ঘরের মাঠে হানা দিয়ে আসা শুভেন্দু, আদি বিজেপি যোদ্ধা দিলীপ, নাকি লুইত থেকে আসা মোহনচরণ মাঝির উপস্থিতিতে অন্য কোনও চমক অপেক্ষা করছে রাইটার্সের জন্য? তৃণমূলের পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হলেও, ২০৭ আসনের বিপুল ম্যান্ডেট নিয়ে সরকার গড়া এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা। আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মেঘ কাটবে। শাহী বিমানে কলকাতার মাটি ছোঁয়ার আগেই কি স্থির হয়ে গিয়েছে নাম? জবাব মিলবে শীঘ্রই। বঙ্গ রাজনীতির নয়া অধ্যায়ের শুভারম্ভে এখন চূড়ান্ত কাউন্টডাউন শুরু। কৌতূহলী বাংলা এখন শুধু শাহী ঘোষণার অপেক্ষায়।

বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই উত্তেজনার পারদ চড়ছে। উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গ, সর্বত্রই গেরুয়া ঝড়ের দাপট দেখা গিয়েছে। বিশেষ করে জঙ্গলমহল ও মতুয়া অধ্যুষিত এলাকায় বিজেপির ফল আশাতীত ভালো। রাজনৈতিক মহলের মতে, মোদী-শাহর যুগলবন্দি এবং সঠিক প্রার্থী নির্বাচনই এই জয়ের মূল চাবিকাঠি। তৃণমূলের পরাজয়ের কারণ হিসেবে উঠে আসছে প্রতিষ্ঠান বিরোধী হাওয়া এবং দুর্নীতির অভিযোগ। তবে এখন এসব অতীত। আগামী পাঁচ বছর বাংলা শাসন করবে বিজেপি। আর সেই শাসনের রাশ কার হাতে থাকবে, তা নির্ধারণ করতেই শাহের এই সফর। কলকাতার একটি অভিজাত হোটেলে হবু বিধায়কদের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজের পরই চূড়ান্ত বৈঠক হওয়ার কথা। সেখান থেকেই উঠে আসবে সেই নাম, যিনি আগামী পাঁচ বছর পশ্চিমবঙ্গের ভাগ্য নির্ধারণ করবেন। বিজেপি সমর্থকদের মধ্যে উল্লাস এখন বাঁধভাঙা। দিকে দিকে চলছে আবির খেলা ও মিষ্টি বিতরণ। কিন্তু সবার নজর এখন সেই লালবাতি লাগানো গাড়ির দিকে, যা পৌঁছাবে রাজভবনে। নবান্নের অলিন্দে এখন নতুন পদধ্বনির অপেক্ষা। বাংলার ইতিহাসে এক নতুন যুগের সূচনা হতে চলেছে বলেই মনে করছেন অভিজ্ঞ রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। শাহের এই সফর কি কেবল মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচন, নাকি আগামী লোকসভা নির্বাচনের রোডম্যাপ তৈরি— তা নিয়েও চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। তবে আপাতত সবার লক্ষ্য ৯ মে-র সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। শতাব্দী প্রাচীন রাইটার্স বিল্ডিংস নাকি নতুন নবান্ন, কোথায় বসবেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী, সেটাই এখন দেখার। বাংলার রাজনীতিতে পরিবর্তনের এই হাওয়া কতটা স্থায়ী হয়, তার উত্তর দেবে সময়। আপাতত শাহের নির্দেশের অপেক্ষায় গোটা বঙ্গ বিজেপি শিবির। ফাইল ফটো।


অভিষেকের পর একই মাঠে অমিত শাহ, বিজেপির শক্তি প্রদর্শনের প্রস্তুতি তুঙ্গে ফালাকাটায়

 

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি:

আজকের খবর