নয়া জামানা উত্তরবঙ্গ ডেস্ক : বয়স ৮৭ ছুঁইছুঁই। শরীর অশক্ত হলেও মনের জোর অটুট। নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী বাড়িতে বসে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাওয়ার কথা থাকলেও, শেষ পর্যন্ত দুই হাতে দুই লাঠি আর নাতি-নাতনিদের ভরসা করেই বুথে পৌঁছলেন কুসুমিবালা সরকার। বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফায় বংশীহারী মহাবাড়ি পঞ্চায়েতের ধুমসাদিঘি এফ পি স্কুলে ধরা পড়ল গণতন্ত্রের এই অভাবনীয় দৃশ্য।
বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা। ১৯৩ নম্বর বুথের রাস্তায় দেখা যায় ধীর পায়ে এগোচ্ছেন এক বৃদ্ধা। দুই হাতে দুটি লাঠি, আর সঙ্গে রয়েছে ১১ বছরের নাতি রাজু ও ৬ বছরের নাতনি কল্পিতা। বাড়ি থেকে প্রায় ৫০০ মিটার তপ্ত রাস্তা পেরিয়ে ভোটকেন্দ্রে পৌঁছান কুসুমিবালা দেবী। এই দৃশ্য দেখে কর্তব্যরত কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা দ্রুত এগিয়ে আসেন এবং তাঁকে সসম্মানে বুথের ভেতরে নিয়ে গিয়ে ভোটদানে সহায়তা করেন।
কুসুমিবালা দেবীর এই লড়াই যেমন প্রশংসিত হচ্ছে, তেমনই কমিশনের ভূমিকা নিয়ে উঠছে গুরুতর প্রশ্ন। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকা অনুযায়ী, ৮৫ বছরের বেশি বয়স্ক ভোটারদের জন্য বাড়িতে গিয়ে ভোট নেওয়ার ব্যবস্থা থাকার কথা। কিন্তু কুসুমিবালা দেবীর ক্ষেত্রে তা হয়নি কেন?
এই বিষয়ে বুথ লেভেল অফিসার সঞ্জয় কীর্তনীয়া জানান, বিডিও অফিস থেকে প্রাপ্ত তালিকায় ওই বৃদ্ধার নাম ছিল না। ফলে নিয়মানুযায়ী তাঁর বাড়িতে গিয়ে ভোট গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। এই তালিকায় নাম না থাকার কারণ নিয়ে স্থানীয় মানুষ এবং পরিবারের সদস্যদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
একদিকে যখন কমিশন সুগম নির্বাচনের দাবি করছে, তখন ৮৭ বছরের এক বৃদ্ধার তালিকায় নাম না থাকা এবং তাঁকে ৫০০ মিটার হেঁটে বুথে আসতে হওয়া প্রশাসনিক সমন্বয়ের অভাবকেই প্রকট করে তুলেছে। কুসুমিবালা দেবী তাঁর গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করলেও, ভোটার পরিষেবায় এমন ঘাটতি ভবিষ্যতে যাতে না ঘটে, সেই দাবিই তুলছেন ওয়াকিবহাল মহল।