কুশল রায় ৷৷ নয়া জামানা ৷৷ উত্তরবঙ্গ ব্যুরো: আজ, বুধবার ২৩ এপ্রিল, বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফায় ভোটের ময়দানে নামছে কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার ও জলপাইগুড়ি জেলার ১৫টি বিধানসভা কেন্দ্র। ব্যালট বাক্সেই আজ বন্দি হবে আগামী পাঁচ বছরের ভাগ্য।
সকাল সাতটা থেকে শুরু হবে ভোটগ্রহণ। তার আগে থেকেই বুথে বুথে পৌঁছে গিয়েছে ভোটকর্মী, ইভিএম ও ভিভিপ্যাট। আর তাদের পাহারায় রয়েছে রেকর্ড ৭৮ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী। স্পর্শকাতর ৩৬টি বুথ-সহ গোটা অঞ্চল কার্যত নিশ্ছিদ্র দুর্গে পরিণত। ডুয়ার্সের চা বাগান থেকে তরাইয়ের গ্রাম, শিলিগুড়ি লাগোয়া এলাকা থেকে কোচবিহারের সীমান্ত, সর্বত্রই জলপাই উর্দির কড়া নজরদারি। ভোটের মুখে সন্ধ্যা ৬টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত বাইক চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করে পরিস্থিতি আরও থমথমে করে তুলেছে কমিশন।
এই দফায় মোট ভোটার ৩২ লক্ষের বেশি। ভাগ্য নির্ধারণ হবে ১২৮ জন প্রার্থীর। লড়াইটা শুধু শাসক-বিরোধীর নয়, লড়াইটা আস্থা আর আতঙ্কেরও। একদিকে বেনজির নিরাপত্তার আশ্বাস, অন্যদিকে বুলেটপ্রুফ গাড়ি আর বেয়নেটের ছায়ায় তৈরি হওয়া শঙ্কা। চায়ের দোকানের আড্ডা উধাও, পুকুরপাড়ের জটলা ফাঁকা। সাধারণ মানুষের মুখে একটাই কথা, আমরা শান্তিতে ভোট দিতে চাই।
আজকের ভোটে নজর থাকবে একাধিক হেভিওয়েট আসনে। কোচবিহারের দিনহাটা, শীতলকুচি থেকে শুরু করে আলিপুরদুয়ারের কালচিনি, মাদারিহাট, জলপাইগুড়ির ধূপগুড়ি, ময়নাগুড়ি, প্রতিটি কেন্দ্রেই হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ইঙ্গিত। চা বাগানের মজুরি, হাতির হানা, এনআরসি আতঙ্ক, কর্মসংস্থানের দাবি, বন্ধ চা বাগান খোলার প্রতিশ্রুতি, এইসব ইস্যুই আজ ইভিএমের বোতামে কথা বলবে।
প্রশাসনের দাবি, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট করাতে তারা বদ্ধপরিকর। ডুয়ার্স কন্যায় খোলা হয়েছে কন্ট্রোল রুম। চারজন বিশেষ পর্যবেক্ষক, কুইক রেসপন্স টিম, ড্রোন নজরদারি, সবই মজুত। কিন্তু প্রশ্ন একটাই, এত কড়াকড়ির পরেও ভোট উৎসবের মেজাজ ফিরবে তো? নাকি বারুদের গন্ধেই শেষ হবে গণতন্ত্রের এই মহাযজ্ঞ?
রাজনৈতিক তরজা, অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগের পালা শেষ। এবার জনতার আদালত। উত্তরবঙ্গের মানুষ কী রায় দেয়, তার দিকেই তাকিয়ে গোটা রাজ্য। সন্ধ্যা ৬টায় শেষ হবে ভোটগ্রহণ। তারপর শুরু হবে স্ট্রংরুমে বন্দি ভাগ্যের দীর্ঘ অপেক্ষা। আজ শুধু ভোট নয়, আজ উত্তরবঙ্গের ভবিষ্যতের ব্লুপ্রিন্ট তৈরি হবে।
সপ্তাহান্তে ভারত-পাক মহারণে বৃষ্টির ভ্রুকুটি, দেশজুড়ে প্রার্থনার মাঝে প্রস্তুত সূর্যবাহিনী