নয়া জামানা , নন্দীগ্রাম: পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রামে ভোটের দিন সকাল থেকেই রাজনৈতিক উত্তাপ স্পষ্ট। বিজেপি প্রার্থী তথা বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী দিন শুরু করেন শান্তিকুঞ্জ থেকে বেরিয়ে। সকাল সাড়ে আটটা নাগাদ তিনি বাড়ি থেকে বেরোন এবং সংবাদমাধ্যমের সামনে সংক্ষিপ্ত বার্তায় বলেন, “পরিবর্তন চাই, পরিবর্তন আনুন।” তাঁর এই বক্তব্যে ভোটের আগে থেকেই রাজনৈতিক বার্তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
এদিন তিনি গাড়ি ব্যবহার না করে ই-রিকশায় চেপে নিজের বুথের উদ্দেশে রওনা দেন। পথে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সংযোগও করেন এবং সমর্থকদের উদ্দেশে বিভিন্ন বার্তা দেন। গ্রামের পথ পেরিয়ে তিনি পৌঁছন নন্দনায়কবাড় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে, যেখানে তাঁর নির্ধারিত বুথ। সেখানে প্রায় আধ ঘণ্টা অবস্থান করার পর তিনি ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।
ভোট দেওয়ার আগে ও পরে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে ইতিবাচক মন্তব্য করেন শুভেন্দু। তাঁর কথায়, “ভোটের আগের রাতটা খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল। যা দেখেছি, তাতে নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ধন্যবাদ জানানো যায়।” তিনি জানান, সামগ্রিকভাবে ভোট প্রক্রিয়া সন্তোষজনকভাবেই এগোচ্ছে।
তবে এর পাশাপাশি তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তোলেন তিনি। শুভেন্দুর দাবি, নন্দীগ্রামের দু’টি গ্রামে কিছু ভোটারকে ভোট দিতে বাধা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া তাঁর অভিযোগ, বিজেপির পোলিং এজেন্টদের হেনস্তা করা হয়েছে এবং পিংলার ওসি চিন্ময় প্রামাণিকের বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ তুলে তাঁর অবিলম্বে সাসপেনশনের দাবি জানান।
ভোট দেওয়ার পর তিনি নিজের কার্যালয়ে গিয়ে ঘাঁটি গেড়ে বসেন এবং কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে সারাদিনের ভোট পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, “ভোটের সকালে গুন্ডাদের রাস্তায় থাকতে দেব না।” যদিও তিনি এ-ও স্বীকার করেন যে বড় কোনও অশান্তির খবর নেই এবং মোটের উপর ভালোভাবেই ভোটগ্রহণ চলছে।
নন্দীগ্রামে দিনভর ভোটের আবহে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের মধ্যেই নজর এখন পড়েছে শেষ ফলাফলের দিকে।
ভোটের সকালেই রক্তাক্ত ডোমকল, বামেদের বুথে যেতে বাধা তৃণমূলের