কুঞ্জ বিহারী শর্মা, নয়া জামানা, মালদা: ভোটের দিনেই ভোগান্তির এক তীব্র চিত্র সামনে এল পুরাতন মালদায়, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বাভাবিক ধারাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। পৌরসভার ১১ ও ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত ১১৯ ও ১৩৩ নম্বর বুথ,গৌর মহাবিদ্যালয় ভোটগ্রহণ কেন্দ্রেই দিনের শুরু থেকে দেখা দেয় গুরুতর ইভিএম বিপর্যয়। অভিযোগ, সকাল পাঁচটা থেকে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েও বহু ভোটার তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারেননি।ভোরের আলো ফোটার আগেই ভোট দেওয়ার আশায় কেন্দ্রে ভিড় জমাতে শুরু করেন সাধারণ মানুষ। কিন্তু সময় গড়ালেও মেশিন ঠিক না হওয়ায় ক্রমশ বাড়তে থাকে অপেক্ষার সময়, আর তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকে ক্ষোভ ও অসন্তোষ। প্রবীণ নাগরিক থেকে শুরু করে মহিলা, যুবক,সবাইকেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হয় লাইনে। পরিস্থিতি এতটাই অসহনীয় হয়ে ওঠে যে, প্রসবের দিন ঘনিয়ে আসা এক গর্ভবতী মহিলাকেও বাধ্য হয়ে দীর্ঘক্ষণ লাইনে অপেক্ষা করতে দেখা যায়, যা মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকেও প্রশ্ন তুলছে।স্থানীয়দের অভিযোগ, বারবার জানানো সত্ত্বেও দ্রুত সমস্যার সমাধানে উদ্যোগ নিতে দেখা যায়নি দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষকে। ফলে ধীরে ধীরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে ভোটারদের মধ্যে। ক্ষুব্ধ মানুষজনের মধ্যে শুরু হয় বিক্ষোভ, ওঠে প্রশাসনের গাফিলতির অভিযোগ। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন,এমন গুরুত্বপূর্ণ দিনে কেন আগে থেকে যথাযথ প্রস্তুতি নেওয়া হল না?এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকায় চাপা উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ভোটের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ দিনে এই ধরনের প্রযুক্তিগত ব্যর্থতা শুধু সাধারণ মানুষের ভোগান্তিই বাড়ায় না, বরং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার উপর আস্থাকেও নাড়া দেয়। এখন দেখার, প্রশাসন এই ঘটনার কী ব্যাখ্যা দেয় এবং ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
লোকালয়ে হরিণের দৌড়! বসন্তের সকালে বাসুডিতে চাঞ্চল্য, তৎপর বনদপ্তর