নয়া জামানা ডেস্ক : আজ জঙ্গলমহলে মেগা ফাইট। ঠিক তার আগেই গোপীবল্লভপুরের রাজনৈতিক সমীকরণে বিনাশ্রমে বড়সড় ধস নামাল গেরুয়া শিবির। ভোটের আগের রাতে তৃণমূলের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিন্ন করে বিজেপিতে যোগ দিলেন ওই কেন্দ্রের বিদায়ী বিধায়ক খগেন্দ্রনাথ মাহাতো। বুধবার রাতে সল্টলেকের বিজেপি কার্যালয়ে শুভেন্দু অধিকারীর হাত ধরে তাঁর এই দলবদল ঝাড়গ্রামের রাজনীতির মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। নিছক যোগদান নয়, বরং একে বড়সড় মাস্টারস্ট্রোক হিসেবেই দেখছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা। শশী অগ্নিহোত্রীর উপস্থিতিতে খগেন্দ্রর হাতে দলীয় পতাকা তুলে দিয়ে শুভেন্দু বলেন, ‘আজ বিকেলেই আমাদের সঙ্গে দেখা করেছিলেন খগেন্দ্রনাথ। কোনও শর্ত ছাড়াই বিজেপিতে যোগ দিতে চেয়েছিলেন। পেশায় তিনি চিকিৎসক। গোপীবল্লভপুর-সহ জঙ্গলমহলে প্রচুর মানুষকে সেবা করেন।’ শুভেন্দুর দাবি, মোদীর উন্নয়ন এবং ওড়িশা সরকারের কাজ দেখেই বিজেপিতে আসার অনুপ্রেরণা পেয়েছেন এই প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক। তিনি আরও বলেন, ‘বিজেপির সংকল্পপত্রে কুড়মালি ভাষাকে অষ্টম তফসিলের অন্তর্ভুক্ত করার যে কথা রয়েছে, তাতে খুশি তিনি।’ তৃণমূলের টিকিট না পেয়ে যে খগেন্দ্র তলে তলে দূরত্ব বাড়াচ্ছিলেন, বুধবার রাতের ঘটনায় তার প্রমাণ মিলল। দলবদল সেরে তিনি জানান, ‘আমি বিশ্বাসঘাতকতার শিকার। যেমন এক কথায় রাজনীতিতে এসেছিলাম, সেই ভাবেই বিজেপিতে এলাম। আমিও চাই পরিবর্তন হোক।’ উল্লেখ্য, ২০১১ ও ২০১৬ সালে এই আসনে জিতেছিল ঘাসফুল শিবির। ২০২১-এ চূড়ামণি মাহাতোর জায়গায় খগেন্দ্রকে প্রার্থী করে চমক দিয়েছিল তৃণমূল। কিন্তু এবার খগেন্দ্রর বদলে কাউন্সিলর অজিত মাহাতোকে প্রার্থী করতেই শুরু হয় সংঘাত। জঙ্গলমহলে ভোটগ্রহণের ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগে বিদায়ী বিধায়কের এই শিবির বদল নিঃসন্দেহে শাসকদলের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। তৃণমূলের অন্দরের ‘অপশাসন’ ও ‘দুর্নীতি’র তত্ত্ব খাড়া করে খগেন্দ্রর এই যোগদান ভোটবাক্সে পদ্মকে বাড়তি মাইলেজ দেয় কি না, এখন সেটাই দেখার। ছবি সংগৃহিত।
সবুজের কোর্ট এবার ছেড়ে পদ্মবনে ! বিজেপিতে মধুসূদনের বংশধর লিয়েন্ডার