নয়া জামানা ডেস্ক : পহেলগাঁওয়ে যখন জঙ্গি হানা হয়, তখন কেন্দ্রের এই সাঁজোয়া গাড়িগুলো কোথায় লুকিয়ে ছিল? বাংলায় ভোটের নাম করে কেন যুদ্ধের সরঞ্জাম আনা হচ্ছে? বুধবার হুগলির হরিপাল এবং উত্তর ২৪ পরগনার আমডাঙার জোড়া জনসভা থেকে ঠিক এই ভাষাতেই মোদী সরকারকে তুলোধোনা করলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর স্পষ্ট অভিযোগ, মণিপুরে তিন বছর ধরে শান্তি নেই, সেখানে গাড়ি না পাঠিয়ে বাংলায় গায়ের জোর দেখাচ্ছে বিজেপি। এদিন বিজেপিকে ‘রাজনৈতিক গিরগিটি’ আখ্যা দিয়ে তিনি সাফ জানান, ২০২৬ সালেই এই সংখ্যালঘু কেন্দ্রীয় সরকারের পতন নিশ্চিত। জনসভার শুরুতেই পহেলগাঁও ইস্যু টেনে মমতা তোপ দাগেন। তিনি বলেন, ‘পহেলগাঁওয়ে এসে জঙ্গিরা আমাদের মেরে যায়। মোদীবাবু পাকিস্তানকে আক্রমণ করতে পারেন না। আর বাংলায় ভোটের জন্য সাঁজোয়া গাড়ি এনেছে! কিসে লাগে? পহেলগাঁওয়ের সময় সাঁজোয়া গাড়ি কোথায় ছিল? মণিপুরে তিন বছর ধরে শান্তি নেই। সেখানে এই গাড়ি পাঠান।’ কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন নেত্রী। তাঁর দাবি, ‘গায়ের জোরে কেন্দ্রীয় বাহিনী ছাপ্পা ভোট দেবে। আমি ওদের বলব, রাজনীতি করবেন না। আমরা আপনাদের স্যালুট করি। আপনারা দেশরক্ষা করেন। কেন্দ্রীয় বাহিনী নাকি ‘বিজেপি জিন্দাবাদ’ বলে এখন! এত দুঃসাহস হয় কী করে?’ রেলের বেহাল দশা নিয়ে সরব হয়ে মমতা বলেন, ‘রেলের ১২টা বাজিয়ে দিয়েছে। দূরপাল্লার ট্রেনে আজকাল চড়া যায় না। চাদরগুলো নোংরা, পাতা যায় না। খাবারে ইঁদুর, টিকটিকি ঘুরে বেড়ায়। শৌচালয়ে যাওয়া যায় না। নিজেদের দিকে আগে তাকাও।’ অনুপ্রবেশকারী তকমা দেওয়ার বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের জন্ম, কর্ম সব এখানে। আমাদের অনুপ্রবেশকারী বলছে! যারা ২০২৫-এ এসেছে, কেন্দ্রীয় সরকার লুকিয়ে নিয়ে এসেছে, তাদের সিএএ সার্টিফিকেট দিচ্ছে। আমি নিজে ভোটাধিকার বাঁচাতে সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিলাম।’ বিজেপির বাঙালি সংস্কৃতি নিয়ে অজ্ঞতাকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, ‘নেতাজি বলেছিলেন, তোমরা আমাকে রক্ত দাও, আমি স্বাধীনতা দেব। সেটা বলে দিল বিবেকানন্দ বলেছেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে বলল রবীন্দ্র সান্যাল। রাসমণিকে রসমণি বলে ওরা।’ এদিন শুভেন্দু অধিকারীকে ‘গদ্দার বাবু’ সম্বোধন করে মমতা অভিযোগ করেন, ‘কাল রাত থেকে কোলাঘাটে কেউ যেতে পারছে না। কাল থেকে বাবু, গদ্দার বাবু, পিরিতের বাবু, দোসর কোলাঘাট থেকে রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছে যাতে কেউ যেতে না-পারে। পশ্চিম মেদিনীপুরে রেল ব্লক করে দিয়েছে।’নন্দীগ্রামের প্রসঙ্গ টেনে ভোটারদের সতর্ক করে মমতা বলেন, ‘নন্দীগ্রামে জোর করে ইভিএম মেশিন ভেঙে দিয়েছিল। আমি জেতার পরেও। কম্পিউটারে নাম না-ওঠা পর্যন্ত কেউ জমি ছাড়বেন না।’ একইসঙ্গে ইভিএম কারচুপির আশঙ্কা প্রকাশ করে তাঁর সতর্কবার্তা, ‘ইভিএম মেশিন খারাপ করে দেবে। চিপ ঢুকিয়ে রেখে দেবে।’ বহিরাগত ভোটারদের রুখতে মহিলাদের দায়িত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ‘রাজস্থান, বিহার থেকে ট্রেনে করে এসে ভোট দেবে? এ বার আটকে রাখবেন। মায়েদের দায়িত্ব দিলাম। পালাতে দেবেন না।’ ডিএ ইস্যুতে কমিশনকে আক্রমণ করে নেত্রী দাবি করেন, ‘চার পার্সেন্ট ডিএ বাড়িয়েছি বাজেটে। ইলেকশন কমিশন চেপে রেখে দিয়েছে। এই মাসেই আপনারা মাইনের সঙ্গে এই টাকা পেয়ে যাবেন।’ সভার শেষে তাঁর হুঙ্কার, ‘বদল নয়, বদলা চাই। ভোটের বাক্সে বদলা চাই। গণতন্ত্রে বদলা চাই। খুনোখুনিতে আমরা বিশ্বাস করি না।’ চাকরি দেওয়ার দায়বদ্ধতা থেকে শুরু করে কালো টাকার বিরুদ্ধে সতর্ক থাকা— সব মিলিয়ে বুধবারের সভা থেকে মোদী-শাহের দলকে কার্যত ধুয়ে দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো। ফাইল ফটো।
৫০ হাজার ভোটে জিতলেই বেতনী নদীর উপর বড় সেতু — সন্দেশখালীর মঞ্চ থেকে ঘোষণা অভিষেকের