মানস দাস,নয়া জামানা, মালদা:উদ্বোধন হয়েছিল জাঁকজমক করে।উপস্থিত ছিলেন তৎকালীন রেলমন্ত্রী এবিএ গণি খান চৌধুরী।কিন্তু উদ্বোধনের পরই যেন থেমে যায় সবকিছু। বছরের পর বছর কেটে আজ ৪৩ বছর।কিন্তু এখনও তালাবন্ধ মালদা রেলওয়ে হাসপাতালের ব্লাড ব্যাংক।
১৯৮৩ সালে মালদায় ছিল মাত্র দুটি ব্লাড ব্যাংক জেলা হাসপাতাল এবং রেল হাসপাতাল।তখন রক্তের জোগানে বড় সমস্যা ছিল না।সেই সময় মালদা রেল হাসপাতাল ব্লাড ব্যাংক খোলা ছিল কিন্তু নিয়মের জটিলতায় একসময় বন্ধ হয়ে যায় রেল হাসপাতালের ব্লাড ব্যাংক। এরপর দীর্ঘ তিন দশক ধরে আর খোলেনি সেই দরজা।
অথচ বর্তমানে মালদায় রক্তের চাহিদা যথেষ্ট বেশি।২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় বছরে প্রয়োজন প্রায় ৪২ হাজার ইউনিট রক্ত।সেখানে মজুত ছিল মাত্র ১২ হাজার ৮৯১ ইউনিট।অর্থাৎ ঘাটতি প্রায় ২৯ হাজার ইউনিট।গত বছর ২৮৭টি রক্তদান শিবির থেকে সংগ্রহ হয়েছে ১২ হাজার ৯১ ইউনিট রক্ত।কলকাতা থেকেও আনা হয়েছে প্রায় ৮০০ ইউনিট।
এই পরিস্থিতিতে ফের আশার আলো দেখাচ্ছে রেল হাসপাতাল। নতুন করে ব্লাড ব্যাংক চালুর উদ্যোগ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।ইতিমধ্যেই মালদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।মালদা
রেল হাসপাতালের সিএমএস ডা.অনুপা ঘোষের দাবি, মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নির্দিষ্ট দূরত্বের মধ্যে দ্বিতীয় ব্লাড ব্যাংক চালুর নিয়মের কারণেই এতদিন সমস্যা হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে উত্তর মালদার বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মুও দ্রুত ব্লাড ব্যাংক চালুর দাবি জানিয়েছেন।তাঁর বক্তব্য, মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে।
এবিষয়ে মালদা জেলা রক্ত আন্দোলনের অন্যতম মুখ অনিল কুমার সাহা জানান,অবিলম্বে রেল হাসপাতালের ব্লাড ব্যাংক খোলা প্রয়োজন।কারণ এর ফলে উপকৃত হবে মালদার মানুষ।
৩০ বছরের অপেক্ষার পর এবার কি সত্যিই খুলবে রেলের ব্লাড ব্যাংকের দরজা?তারই উত্তর খুঁজছে মালদা।