নয়া জামানা:রাজ্যে পুজো-উৎসবের ওপর থেকে অহেতুক বিধিনিষেধের প্রাচীর ভেঙে দিয়ে সাধারণ মানুষই গণপতি বাপ্পাকে ঘরের চারদেওয়াল থেকে রাজপথে বের করে এনেছেন। সোমবার বালিগঞ্জের ভারত সেবাশ্রম সংঘের গণেশপুজোর সূচনা করে বললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
শুধু তাই নয়, পুজোর উদ্বোধনে গিয়ে বিগত সরকারগুলোর প্রশাসনিক অচলাবস্থাকে কড়া ভাষায় বিঁধেছেন তিনি। একই সঙ্গে টুকরে টুকরে গ্যাং ও দেশবিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে গর্জে ওঠা, বিরোধী কমিউনিস্টদের নবান্নে বিশ্বকর্মা পুজোয় পুষ্পাঞ্জলি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।উৎসবের আবহ তৈরি নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুভেন্দু বলেন, এরা গত চার বছর ধরে এই পুজোর আয়োজন করছে। আগে এই পুজো রাস্তায় করার অনুমতি মিলত না, ভেতরে বন্দি রেখে করতে হত, তা সত্ত্বেও প্রচুর মানুষ আসতেন। কিন্তু আমাদের জনতা জনার্দনই শেষ পর্যন্ত গণপতিকে বাইরে বের করে এনেছেন।
আগের সরকার চিন্তাও করতে পারেনি যে গণেশপুজো এ ভাবে রাজপথে নেমে জনউৎসবের রূপ নিতে পারে। কিন্তু মানুষই তা সম্ভব করেছে। আর মাত্র কদিন পরেই দেবীপক্ষ, তার আগে এই গণেশ চতুর্থী দিয়েই বাংলায় উৎসবের মেজাজ শুরু হয়ে গেল।এদিন জাতীয় সংহতি ও সনাতন সংস্কৃতির পক্ষে সওয়াল করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, যারা দেশে থেকে দেশের ক্ষতি করতে চায়, সেই সব দেশবিরোধী শক্তি ও টুকরে টুকরে গ্যাং রূপী অসুরদের থেকে সবাইকে দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। আমাদের সনাতন ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি টিকা, শিখা, শাঁখা এবং পলার মর্যাদা সবটা ধরে রাখতে হবে।বামপন্থীদের কটাক্ষ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সকাল থেকে দেখছি অনেকেরই খুব কষ্ট হচ্ছে! বিশেষ করে কমিউনিস্টদের ভীষণ দুঃখ আর রাগ তৈরি হয়েছে কেন আমরা পুজোর কথা বলব? অনেকে বলছে গণেশপুজো তো মহারাষ্ট্রের, তা কেন এখানে ঘরে ঘরে হবে? আমি তাদের সাফ বলতে চাই, আমরা সকলেই ভারতীয় হিন্দু। আমাদের মধ্যে কোনও আঞ্চলিক বিভাজনের প্রাচীর থাকবে না, সেই প্রাচীর আমরা ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছি। আমরা সবাই এক সঙ্গে থাকব। এই সুরেই বাম মনোভাবাপন্নদের নবান্নে আমন্ত্রণ জানিয়ে শুভেন্দুর খোঁচা, আমি নবান্নে বিশ্বকর্মা পুজোতে পুষ্পাঞ্জলি দেব। ওদেরও আমন্ত্রণ জানাচ্ছি, ওই দিন নবান্নে আসুন এবং আমার সঙ্গে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে পুষ্পাঞ্জলি দিন।