নয়া জামানা, কলকাতা : মনোনয়ন জমা দেওয়ার ঠিক মুখে বড়সড় বাধা কাটল বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর। তবে পুলিশের তালিকার জন্য এখনই স্বস্তি পাচ্ছেন না কৌস্তভ বাগচী। রাজ্য পুলিশের রিপোর্টে শুভেন্দুর বিরুদ্ধে মামলার জট কাটলেও মঙ্গলবার পর্যন্ত ঝুলে রইল কৌস্তভের ভাগ্য। ভোটের লড়াইয়ে নামার আগে আইনি গেরো মুক্ত হতে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন বিজেপি প্রার্থীরা। হলফনামায় মামলার সঠিক তথ্য দিতে কলকাতা হাইকোর্টের কড়া নাড়েন শুভেন্দু। শুক্রবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে রাজ্য পুলিশ স্পষ্ট জানায়, ২০২১ সাল থেকে এ যাবৎ বিরোধী দলনেতার বিরুদ্ধে রাজ্যে মোট ২৫টি ফৌজদারি মামলা রুজু হয়েছে। এর আগে কলকাতা পুলিশ জানিয়েছিল তাদের অধীনে শুভেন্দুর বিরুদ্ধে রয়েছে ৭টি মামলা। অর্থাৎ, সব মিলিয়ে নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুরের বিজেপি প্রার্থীর ঘাড়ে ঝুলছে মোট ৩২টি মামলার বোঝা। পুলিশের কাছ থেকে এই হিসাব স্পষ্ট হতেই শুভেন্দুর আবেদনের নিষ্পত্তি করে দেয় আদালত। এখন স্বচ্ছন্দেই নিজের মনোনয়ন দাখিল করতে পারবেন তিনি। উল্টো চিত্র ব্যারাকপুরের বিজেপি প্রার্থী কৌস্তভ বাগচীর ক্ষেত্রে। কলকাতা পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে ৪টি মামলার হদিশ দিলেও রাজ্য পুলিশের ঝুলি থেকে এখনও সঠিক পরিসংখ্যান বেরোয়নি। কৌস্তভের বিরুদ্ধে কোথায় কত মামলা রয়েছে, তা জানাতে এদিন আরও সময় চেয়ে নেয় প্রশাসন। সরকারি আইনজীবীর এই আর্জি মেনে নিয়ে বিচারপতি নির্দেশ দিয়েছেন, আগামী ৩১ মার্চ অর্থাৎ মঙ্গলবারের মধ্যে রাজ্য পুলিশকে কৌস্তভ সংক্রান্ত যাবতীয় মামলার তথ্য পেশ করতে হবে। ফলে মনোনয়নের আগে আইনি স্বচ্ছতা পেতে আরও কয়েক দিন প্রতীক্ষায় থাকতে হচ্ছে কৌস্তভকে।
ভোটের আগে প্রার্থীদের বিরুদ্ধে ঠিক কতগুলি এফআইআর রয়েছে, তা নিয়ে টানাপোড়েন নতুন নয়। এর আগে ময়নার বিজেপি প্রার্থী অশোক দিন্দাও একই ভাবে আদালতের হস্তক্ষেপে নিজের মামলার হিসাব বুঝে নিয়েছিলেন। শুভেন্দুর ক্ষেত্রে জট কাটলেও কৌস্তভের মামলার নিষ্পত্তি ৩১ মার্চের আগে সম্ভব হচ্ছে না। শাসক-বিরোধী সংঘাতের আবহে মামলার এই পাহাড় ডিঙিয়ে প্রার্থীরা ভোটের ময়দানে কতটা দাপট দেখাতে পারেন, এখন সেটাই দেখার।