মানস দাস,নয়া জামানা : পশ্চিমবঙ্গের রেল পরিকাঠামোয় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে। নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের বৈঠকের পর বাংলার জন্য একাধিক মেগা রেল প্রকল্পের ঘোষণা করা হয়েছে।সবচেয়ে বড় চমক, শিলিগুড়ি থেকে দিল্লি পর্যন্ত বুলেট ট্রেন চালুর পরিকল্পনা।
শনিবার কলকাতায় এসে প্রথমে মেট্রো পরিষেবা পরিদর্শন করেন রেলমন্ত্রী।এরপর নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠকে বসেন তিনি।বৈঠক শেষে যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে জানানো হয়,পশ্চিমবঙ্গে আগামী দিনে প্রায় ১ লক্ষ কোটি টাকার রেল উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন,অতীতে কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয়ের অভাবে বহু গুরুত্বপূর্ণ রেল প্রকল্প আটকে ছিল।তবে এখন সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে। রাজ্যের উন্নয়নের স্বার্থে কেন্দ্র ও রাজ্য একসঙ্গে কাজ করবে। তিনি জানান, ইতিমধ্যেই ৬১টি রেল প্রকল্পে অনুমোদন মিলেছে এবং প্রয়োজনীয় জমি প্রদানে রাজ্য সরকার পূর্ণ সহযোগিতা করবে।সবচেয়ে আলোচিত ঘোষণা হলো শিলিগুড়ি-দিল্লি বুলেট ট্রেন প্রকল্প।পরিকল্পনা অনুযায়ী,এই ট্রেন চালু হলে মাত্র ছয় ঘণ্টায় দিল্লি পৌঁছানো সম্ভব হবে। উত্তরবঙ্গের যোগাযোগ ব্যবস্থায় এটি যুগান্তকারী পরিবর্তন আনতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।শুধু বুলেট ট্রেনই নয়, কলকাতা মেট্রোর সম্প্রসারণেও বড়সড় বিনিয়োগের কথা ঘোষণা করা হয়েছে।আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ৬০টি নতুন আধুনিক মেট্রো রেক যুক্ত হবে শহরের পরিবহণ ব্যবস্থায়।এর ফলে যাত্রী পরিষেবা আরও উন্নত ও দ্রুত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।পণ্য পরিবহণ ক্ষেত্রেও এসেছে বড় ঘোষণা। ডানকুনি থেকে সুরাট পর্যন্ত একটি ডেডিকেটেড ফ্রেট করিডর তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।এই করিডর চালু হলে শিল্প ও বাণিজ্যের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলবে এবং পণ্য পরিবহণের সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে।
রেলমন্ত্রী আরও জানান, পশ্চিমবঙ্গে ১০২টি অমৃত ভারত স্টেশন গড়ে তোলা হবে। পাশাপাশি যানজট ও দুর্ঘটনা কমাতে রাজ্যজুড়ে ৫৩৮টি নতুন ফ্লাইওভার ও আন্ডারপাস নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।
অশ্বিনী বৈষ্ণব বলেন,বাংলার রেল উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দে কোনও সমস্যা নেই। দ্রুত কাজ শুরু করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পগুলি সম্পূর্ণ করাই এখন লক্ষ্য।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কেন্দ্র ও রাজ্যের এই নতুন সমন্বয় পশ্চিমবঙ্গের রেল অবকাঠামোকে আমূল বদলে দিতে পারে।বুলেট ট্রেন থেকে আধুনিক মেট্রো,নতুন স্টেশন থেকে ফ্রেট করিডর সব মিলিয়ে বাংলার যোগাযোগ ব্যবস্থায় আসতে চলেছে এক নতুন যুগ।
আরও পড়ুন:
বস্তিবাসীদের স্বস্তি, ব্রেস ব্রিজ রেল স্টেশন চত্বরে উচ্ছেদে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ হাইকোর্টের