প্রদীপ কুন্ডু, নয়া জামানা, শিলিগুড়ি :উত্তরবঙ্গ সফরের শুরুতেই বুধবার শিলিগুড়িতে প্রথম প্রশাসনিক বৈঠক সারলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বাগডোগরা বিমানবন্দরে পা রেখেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, উত্তরবঙ্গের মানুষের দেওয়া সমর্থন ও ভালোবাসার ঋণ তিনি উন্নয়নের মাধ্যমেই শোধ করবেন। এরপরই শিলিগুড়িতে আয়োজিত প্রশাসনিক বৈঠকে উত্তরবঙ্গের সার্বিক উন্নয়নের রূপরেখা তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী।
এদিনের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলার জেলাশাসক, পুলিশ সুপার, প্রশাসনিক আধিকারিক এবং জনপ্রতিনিধিরা। বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, উত্তরবঙ্গের মানুষের প্রত্যাশা অনেক। সেই প্রত্যাশা পূরণ করাই সরকারের প্রধান দায়িত্ব। তিনি জানান, আগামী দিনে এই অঞ্চলের পরিকাঠামো উন্নয়নে বিশেষ জোর দেওয়া হবে। রাস্তা ও সেতু নির্মাণ, স্বাস্থ্য পরিষেবার মানোন্নয়ন, শিক্ষা ব্যবস্থার বিস্তার এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলেন তিনি।
প্রশাসনিক বৈঠকে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের অগ্রগতি খতিয়ে দেখা হয়। পাহাড় ও সমতল এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও মজবুত করা, প্রত্যন্ত এলাকায় পানীয় জলের সমস্যা দূর করা, কৃষকদের সহায়তায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং পর্যটন শিল্পের সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট নির্দেশ দেন, কোনও প্রকল্প যাতে দীর্ঘসূত্রিতার শিকার না হয়, সেদিকে প্রশাসনকে সতর্ক থাকতে হবে।
মুখ্যমন্ত্রী প্রশাসনিক আধিকারিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, সাধারণ মানুষের সমস্যার দ্রুত সমাধান নিশ্চিত করতে হবে। সরকারি পরিষেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বজায় রাখার পাশাপাশি দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার বার্তাও দেন তিনি। তাঁর কথায়, উন্নয়ন তখনই অর্থবহ হয়, যখন তার সুফল সরাসরি সাধারণ মানুষের হাতে পৌঁছায়।
শিলিগুড়িতে মুখ্যমন্ত্রীর এই প্রথম প্রশাসনিক বৈঠক রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। উত্তরবঙ্গকে উন্নয়নের নতুন মডেল হিসেবে গড়ে তোলার যে অঙ্গীকার মুখ্যমন্ত্রী করেছেন, তা বাস্তবায়িত হলে আগামী দিনে এই অঞ্চলের আর্থ-সামাজিক চিত্রে বড় পরিবর্তন আসবে বলে আশাবাদী স্থানীয় বাসিন্দারা।