সুজিত দত্ত, নয়া জামানা, বর্ধমান: পূর্ব বর্ধমান জেলায় আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষের কাছে সরকারি পরিষেবা পৌঁছে দিতে শুরু হল বিশেষ কর্মসূচি জনভাগিদারী অভিযান! “সবসে দূর, সবসে পহেলে”। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এবং কেন্দ্রীয় জনজাতি বিষয়ক মন্ত্রকের সহযোগিতায় এই অভিযান চলবে ১৮ মে থেকে আগামী ২৫ মে পর্যন্ত। জেলাশাসক শ্বেতা আগরওয়াল। সোমবার এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, জেলার ১০টি ব্লকের ২৫টি আদিবাসী অধ্যুষিত গ্রামকে এই অভিযানের জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে। যেসব গ্রামে আদিবাসী জনসংখ্যার হার ৫০ শতাংশ বা তার বেশি, সেখানেই বিশেষ ক্যাম্পের আয়োজন করা হচ্ছে। এই ক্যাম্পগুলিতে আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষদের এসটি সার্টিফিকেট, রেশন ও কৃষি সংক্রান্ত পরিষেবা-সহ বিভিন্ন সরকারি সুযোগ-সুবিধা সরাসরি প্রদান করা হবে। পাশাপাশি থাকবে স্বাস্থ্য পরীক্ষা, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং ‘জন শুনানি’-র ব্যবস্থা। যেখানে স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁদের সমস্যা ও অভিযোগ সরাসরি প্রশাসনিক আধিকারিকদের সামনে তুলে ধরতে পারবেন। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রতিদিনের কর্মকাণ্ড ও পরিষেবার খতিয়ান একটি বিশেষ পোর্টালে আপলোড করা হবে। কর্মসূচি শেষ হওয়ার পর ২৪ ও ২৫ মে প্রশাসনের তরফে একটি ডি-ব্রিফিং অ্যাসেসমেন্ট বা পর্যালোচনা বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে এবং তৈরি করা হবে রিপোর্ট কার্ড। প্রশাসনের দাবি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘বিকশিত ভারত’ ভাবনাকে সামনে রেখেই ‘জনজাতীয় গরিমা উৎসব ২০২৬’-এর অন্তর্গত এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে আদিবাসী মানুষের উন্নয়ন, তাদের সাংস্কৃতিক মর্যাদা রক্ষা এবং মৌলিক পরিষেবা নিশ্চিত করাই মূল লক্ষ্য।
আরও পড়ুন:
বিজেপির জনসংযোগে গ্রামে দরজা বন্ধ, তৃণমূলের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক জিতেন্দ্র তেওয়ারি