অর্ক দাস, নয়া জামানা, কলকাতা: নির্বাচনী প্রচারে উসকানিমূলক মন্তব্য করার অভিযোগে দায়ের হওয়া এফআইআর-কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে এবার কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের হাইভোল্টেজ প্রচার চলাকালীন তাঁর একটি নির্দিষ্ট বক্তব্যকে কেন্দ্র করে এই আইনি জটিলতার সূত্রপাত। জানা গিয়েছে, বিধাননগর পুলিশের সাইবার ক্রাইম শাখায় তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে যে এফআইআর রুজু হয়েছে, সেটিকে সম্পূর্ণ খারিজ করার আবেদন জানিয়েই আদালতের দরজায় কড়া নেড়েছেন তিনি।
নির্বাচনী প্রচারের শুরু থেকেই বিজেপির বিরুদ্ধে লাগাতার কড়া ভাষায় আক্রমণ শানাচ্ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এই প্রচার চলাকালীনই গত ২৭ এপ্রিল একটি জনসভা থেকে বিজেপিকে তীব্র চ্যালেঞ্জ ছুড়ে তিনি বলেছিলেন, ‘‘আমি দেখব, ৪ তারিখ রাত ১২টার পরে কে তাদের বাঁচাতে আসে। এই জল্লাদদের কত ক্ষমতা আছে, আর দিল্লি থেকে কোন বাবা তাদের উদ্ধার করতে আসে, সেটাও দেখব।” তৃণমূল সাংসদের এই মন্তব্যকে ঘিরেই তীব্র বিতর্ক দানা বাঁধে।
অভিষেকের এই বক্তব্যের কড়া বিরোধিতা করে গত কয়েকদিন আগে পুলিশের দ্বারস্থ হন বাগুইআটির বাসিন্দা রাজীব সরকার। তাঁর অভিযোগ, এই ধরণের মন্তব্য উসকানিমূলক এবং তা শান্তিভঙ্গ করতে পারে। নিজের অভিযোগের সপক্ষে তৃণমূল নেতার বিভিন্ন নির্বাচনী সভার বক্তব্যের ভিডিও ক্লিপিংসও প্রমাণ হিসেবে সাইবার ক্রাইম থানায় জমা দেন ওই ব্যক্তি। রাজীব সরকারের এই লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ অভিষেকের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করে।
সূত্রের খবর, তৃণমূলের এই শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে সাইবার ক্রাইম থানায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার মোট ৫টি ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে, যার মধ্যে দুই-একটি ধারা জামিন অযোগ্য। নিজের বিরুদ্ধে এই পুলিশি পদক্ষেপের পরই আইনি লড়াইয়ের পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নেন অভিষেক। আজ, সোমবার তড়িঘড়ি কলকাতা হাই কোর্টে মামলা দায়ের করে আইনি সুরক্ষার পাশাপাশি ওই এফআইআরটি পুরোপুরি বাতিলের দাবি জানিয়েছেন তিনি। চলতি সপ্তাহের মধ্যেই এই মামলার শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে।