নয়া জামানা, পুরুলিয়া :পৌরসভার কড়া নিষেধাজ্ঞা, এমনকী জারি করা হুলিয়াও কার্যত বুড়ো আঙুল দেখিয়ে রমরমিয়ে চলছে পশুর কেনাবেচা। পুরুলিয়ার রাঁচি রোডে জাতীয় সড়কের উপর এভাবেই অত্যন্ত বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে ফের বসল পশুহাট। প্রশাসনের নাকের ডগায় কীভাবে দিনের পর দিন এই বেআইনি কার্যকলাপ চলছে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা এখন সরাসরি প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েই বড়সড় প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রাঁচি রোডের জিইএল চার্চ সংলগ্ন জাতীয় সড়কের এই অংশটি অত্যন্ত ব্যস্ত এলাকা হিসেবে পরিচিত। প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে চব্বিশ ঘণ্টা প্রচুর ভারী ও হালকা যানবাহন চলাচল করে। অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে কিছু ব্যবসায়ী সমস্ত নিয়মকানুনের তোয়াক্কা না করে সরাসরি মূল রাস্তার উপর এই পশুহাট বসিয়ে আসছেন। এর জেরে ওই এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। শুধু গাড়ি চলাচল বিঘ্নিত হওয়াই নয়, গবাদি পশুদের ভিড়ে পথচারীদের যাতায়াত করাও কার্যত বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। যেকোনো মুহূর্তে বড়সড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এর আগে পুরুলিয়া পৌরসভার তরফে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। ওই এলাকায় পশু কেনাবেচা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করে পুর কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট ব্যানারও টাঙিয়ে দিয়েছিল। কিন্তু অভিযোগ, আইন অমান্যকারীরা সেই সরকারি ব্যানার ছিঁড়ে ফেলে দিয়ে সোমবার ফের যথারীতি রাস্তার উপরেই হাট বসায়।
এলাকাবাসীর দাবি, এই নৈরাজ্যের কথা বারবার পৌরসভা ও স্থানীয় প্রশাসনকে জানানো সত্ত্বেও কোনো স্থায়ী সমাধান মেলেনি। পৌরসভার নির্দেশিকাকে এভাবে প্রকাশ্যে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে কীভাবে কিছু মানুষ নিয়ম ভাঙার সাহস পাচ্ছে, তা নিয়ে ক্ষোভ জমছে জনমানসে। প্রশাসনের এই উদাসীনতা ও ঢিলেঢালা মনোভাবেরই সুযোগ নিচ্ছে অসাধু ব্যবসায়ীরা, এমনটাই অভিযোগ সাধারণ মানুষের। অবিলম্বে পুলিশ ও প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্তারা হস্তক্ষেপ করে জাতীয় সড়কের উপর থেকে এই বিপজ্জনক ও অবৈধ পশুহাট স্থায়ীভাবে বন্ধ করুন, এখন এটাই জোরালো দাবি পুরুলিয়াবাসীর।
আরও পড়ুন: