নয়া জামানা ৷৷ উত্তরবঙ্গ : বিল্ডিং প্ল্যান অনুমোদন ঘিরে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে যখন দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ ঘনাচ্ছে, ঠিক সেই সময় নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন অরুন ঘোষ। সোমবার শিলিগুড়ি-তে সাংবাদিক বৈঠকে শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের সভাধিপতি অরুন ঘোষ জানান, বিল্ডিং প্ল্যান পাস করার ক্ষেত্রে তাঁর ব্যক্তিগত কোনও ভূমিকা নেই। তাঁর বক্তব্য, পঞ্চায়েতে জমা পড়া বিল্ডিং প্ল্যান প্রথমে নিযুক্ত আর্কিটেক্টের কাছে যায়, এরপর অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার ও সংশ্লিষ্ট ইঞ্জিনিয়ারদের অনুমোদনের পরই চূড়ান্তভাবে ফাইল তাঁর কাছে আসে। তিনি শুধুমাত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর প্রশাসনিক অনুমোদন দেন। এই বিষয়কে কেন্দ্র করে ব্যক্তিগত আক্রমণ না করার আবেদন জানিয়ে প্রয়োজনে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিও তোলেন তিনি।
এরই মধ্যে বড়সড় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে দিনহাটা পুরসভাকে ঘিরে। বিল্ডিং প্ল্যান পাশ সংক্রান্ত জালিয়াতি মামলায় গ্রেফতার হলেন দিনহাটা পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান গৌরীশংকর মাহেশ্বরী। রবিবার রাতে তিনি আত্মসমর্পণ করলে পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে। সোমবার তাঁকে দিনহাটা মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক তিন দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরেই পুরসভায় বেআইনিভাবে ভুয়ো বিল্ডিং প্ল্যান পাশ করানোর অভিযোগ ছিল। তদন্তে নেমে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নথি উদ্ধার হয়। এর আগেই একই মামলায় পুরসভার কর্মী তথা তৃণমূল নেত্রী মৌমিতা ভট্টাচার্যকে গ্রেফতার করা হয়। তদন্তের সূত্র ধরেই সামনে আসে গৌরীশংকর মাহেশ্বরীর নাম। রাজনৈতিক সূত্রে জানা যায়, তিনি রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী উদয়ন গুহ-র ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত।
আদালতে তোলার সময় গৌরীশংকর মাহেশ্বরী দাবি করেন, তাঁকে রাজনৈতিক চক্রান্তে ফাঁসানো হয়েছে। যদিও তদন্তকারী সংস্থার বক্তব্য, পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতেই এই গ্রেফতারি। প্রশাসনিক মহলের মতে, তদন্ত এগোলে এই বেআইনি প্ল্যান পাশ কাণ্ডে আরও প্রভাবশালীদের নাম সামনে আসতে পারে। দিনহাটার রাজনৈতিক পরিবেশ ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
আরও পড়ুন:
পুরসভায় বিল্ডিং প্ল্যান দুর্নীতি, গ্রেপ্তার তৃণমূল নেত্রী মৌমিতা