আহমেদ বাপি, নয়া জামানা, মালদা: ঈদ-উল-আজহা শান্তি ও শৃঙ্খলার সাথে উদযাপন, শব্দ দূষণ রোধ এবং টোটো চলাচল নিয়ন্ত্রণে এক গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো মালদার গাজোল ব্লক ক্যাম্পাসে। এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন গাজোল থানার আইসি কৌশিক ব্যানার্জি এবং জয়েন্ট বিডিও অমিত সাহাসহ প্রশাসনের অন্যান্য আধিকারিকরা। বৈঠকে বিভিন্ন টোটো সংগঠন, স্থানীয় পঞ্চায়েত এলাকার ইমাম এবং ঈদ উৎসব কমিটির সদস্যরাও অংশ নেন । ঈদ উপলক্ষে গবাদি পশু কুরবানির ক্ষেত্রে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জারি করা হয়েছে একাধিক কড়া নির্দেশিকা।গাজোল ব্লক প্রশাসনের এই বৈঠকে মূলত তিনটি বিষয়ের ওপর জোর দেওয়া হয়—আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, উৎসবের দিনগুলিতে শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং টোটো চালকদের নির্দিষ্ট নিয়মের আওতায় আনা। তবে আসন্ন ঈদকে কেন্দ্র করে কুরবানির পশুর বিষয়ে বেশ কিছু কঠোর বিধিনিষেধের কথা মনে করিয়ে দিয়েছে গাজোল থানার পুলিশ।গাজোল থানার আইসি কৌশিক ব্যানার্জি স্পষ্ট জানিয়েছেন, পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি এবং সরকারি পশু চিকিৎসকের শংসাপত্র বা সার্টিফিকেট ছাড়া কোনোভাবেই কোনো গরু কাটা যাবে না। নিয়ম অনুযায়ী, কুরবানি বা জবাই করার জন্য পশুর বয়স অবশ্যই ১৪ বছরের বেশি হতে হবে। অথবা পশুটি যদি বার্ধক্য, বড় কোনো আঘাত কিংবা কোনো রোগের কারণে স্থায়ীভাবে অক্ষম হয়ে পড়ে, তবেই উপযুক্ত শংসাপত্র সাপেক্ষে তা কাটার অনুমতি মিলবে।এছাড়াও আইসি কৌশিক ব্যানার্জি বলেন, সরকারি নিয়ম মেনে পশু চিকিৎসকের ফিটনেস সার্টিফিকেট বাধ্যতামূলক। শংসাপত্র থাকলেও কোনো অবস্থাতেই প্রকাশ্যে বা উন্মুক্ত স্থানে পশু বলি বা কুরবানি দেওয়া যাবে না। এই নিয়ম অমান্য করে কোনো অভিযোগ জমা পড়লে, প্রশাসন কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।একই সাথে উৎসবের দিনগুলিতে এবং সাধারণ সময়ে শব্দ দূষণ রুখতে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি, ব্লকের যানজট নিয়ন্ত্রণে টোটো চালকদের নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে গাড়ি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে বিভিন্ন টোটো সংগঠনের প্রতিনিধিদের সাথে বিস্তারিত আলোচনা হয় ।প্রশাসন ও উৎসব কমিটির যৌথ উদ্যোগে এইবারের ঈদ যাতে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও পরিবেশবান্ধবভাবে সম্পন্ন হয়, সেই বার্তাই দেওয়া হয়েছে এই বৈঠক থেকে।
আরও পড়ুন:
মালদায় তৃণমূলের দুর্নীতির চার্জশিট প্রকাশ বিজেপির, চার বিধানসভাকে কেন্দ্র করে আন্দোলনের ডাক