নয়া জামানা, কলকাতা : রাজ্য সরকারের বিশেষ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ‘সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর সিভিল সার্ভিসেস স্টাডি সেন্টার’ (এস.এন.টি.সি.এস.এস.সি) থেকে কোচিং নিয়ে ২০২৫ সালের ইউপিএসসি পরীক্ষায় বাজিমাত করলেন ১১ জন প্রার্থী। আন্তর্জাতিক নারী দিবসের প্রাক্কালে এই সাফল্যে উচ্ছ্বসিত মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শনিবার সোশ্যাল মিডিয়ায় সকলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। এবারের সফলদের তালিকায় নারীশক্তির উত্থান বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, তাঁর সরকারের প্রতিষ্ঠিত এই কেন্দ্র থেকে উত্তীর্ণ ১১ জনের মধ্যে প্রায় অর্ধেকই মহিলা। বাংলার এই অভাবনীয় সাফল্যে গর্বিত নবান্ন।
মুখ্যমন্ত্রী এক্স হ্যান্ডলে লিখেছেন, সফল প্রার্থীদের পিতামাতা/অভিভাবক এবং শিক্ষকদের অভিনন্দন এবং শুভেচ্ছা, এবং ভবিষ্যতের প্রচেষ্টার জন্য সকল প্রার্থীদের শুভেচ্ছা। আমরা খুশি যে রাজ্যের সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর সিভিল সার্ভিসেস স্টাডি সেন্টারের প্রার্থীদের উচ্চ ভর্তুকিযুক্ত কোচিং সহায়তা প্রদান করতে পেরেছি। আমাদের সময়ে, আমরা এই ইনস্টিটিউটটি প্রতিষ্ঠা করেছি এবং আমি গর্বিত বোধ করছি।
প্রশাসন সূত্রে খবর, অত্যন্ত স্বল্প খরচে বা উচ্চ ভর্তুকিযুক্ত ফি-তে এই কেন্দ্রে সিভিল সার্ভিসের পাঠ দেওয়া হয়। মেধার জোরে এবারের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন দীক্ষা রাই (৪০), আকাশ কুমার রাই (২৭৯), বৈষ্ণব বিশ্বাস (৩৬৭), গৌতম ঠাকুরি (৪৩২), দেবজ্যোতি হালদার (৪৪৩), দেবব্রত প্রামাণিক (৪৬৭), এস. নিবেদ কুমার (৪৮৬), মহসিনা বানো (৬৪৮), জুহি দাস (৬৪৯), কীর্তি চৌধুরী (৭৬০) এবং আন্নিলা শেরপা (৮৯৩)। এঁদের প্রত্যেকেই আইএএস, আইপিএস বা সমতুল্য সর্বভারতীয় উচ্চপদে আসীন হতে চলেছেন। বাংলার ছেলেমেয়েদের এই উত্তরণ নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও সংযোজন করেছেন, আমাদের সেন্টার থেকে প্রশিক্ষিত ১১ জন প্রার্থী ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিসেস পরীক্ষা ২০২৫ এর চূড়ান্ত মেধা তালিকায় শীর্ষ স্থান অর্জন করেছেন। তাদের মধ্যে প্রায় ৫০% মেয়ে।
মুখ্যমন্ত্রীর মতে, বাংলার আরও অনেক প্রতিভাশালী পরীক্ষার্থী এই কঠিন লড়াইয়ে সফল হয়েছেন। নবান্নের আশা, এই ফল রাজ্যের পরবর্তী প্রজন্মের ছাত্রছাত্রীদের আরও বেশি করে সর্বভারতীয় স্তরের পরীক্ষায় বসতে উৎসাহিত করবে। মুখ্যমন্ত্রী প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, ‘এই মেধাবী ছেলেমেয়েদের তাদের সাফল্যের জন্য ধন্যবাদ। পশ্চিমবঙ্গ সরকার আপনার সঙ্গে আছে ।’ এই সাফল্যের ধারা বজায় রাখতে আগামী দিনে প্রশিক্ষণ পরিকাঠামো আরও উন্নত করার ইঙ্গিত দিয়েছে রাজ্য প্রশাসন। ইউপিএসসি-র এই মেধা তালিকায় রাজ্যের এই জয়জয়কার আদতে বাংলার শিক্ষা ব্যবস্থারই জয় বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।
দোল মিটলেই ভোটের নির্ঘণ্ট চান শুভেন্দু, ভোটার তালিকায় বদল নিয়ে জয় দেখছেন বিরোধী দলনেতা