যুদ্ধবিরতির শর্তে খুলল হরমুজ

নয়া জামানা ডেস্ক : খুলে গেল রুদ্ধদ্বার। লেবাননে যুদ্ধবিরতির আবহে অবশেষে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিল ইরান। বৃহস্পতিবার ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় লেবানন ও ইজ়রায়েলের মধ্যে ১০ দিনের সংঘর্ষবিরতি ঘোষণার পরেই শুক্রবার এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিল তেহরান। গত ২৮....

যুদ্ধবিরতির শর্তে খুলল হরমুজ

নয়া জামানা ডেস্ক : খুলে গেল রুদ্ধদ্বার। লেবাননে যুদ্ধবিরতির আবহে অবশেষে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের....

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
X
Threads
Telegram

আরও পড়ুন


নয়া জামানা ডেস্ক : খুলে গেল রুদ্ধদ্বার। লেবাননে যুদ্ধবিরতির আবহে অবশেষে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিল ইরান। বৃহস্পতিবার ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় লেবানন ও ইজ়রায়েলের মধ্যে ১০ দিনের সংঘর্ষবিরতি ঘোষণার পরেই শুক্রবার এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিল তেহরান। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এই জলপথ অবরুদ্ধ থাকায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের যে সংকট তৈরি হয়েছিল, তা কাটার সম্ভাবনা উজ্জ্বল হয়েছে। ইরানের এই পদক্ষেপের পরেই আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এক ধাক্কায় ১০ শতাংশ কমেছে। একে ট্রাম্পের বড় কূটনৈতিক জয় হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই দূতিয়ালিকে স্বাগত জানিয়ে শুক্রবারই ইরানকে ধন্যবাদ দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, হরমুজ এখন পুরোপুরি উন্মুক্ত। নিজের এক্স অ্যাকাউন্টে শুক্রবার ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি লিখেছেন, ‘লেবাননে যুদ্ধবিরতি হয়েছে। সেই যুদ্ধবিরতির যে ক’দিন বাকি রয়েছে, সেই দিনগুলিতে হরমুজ় দিয়ে সমস্ত বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করতে পারবে। ইসলামিক রিপাবলিক অফ ইরানের বন্দর এবং জাহাজ সংগঠন সেই চলাচলের পথের কথা ইতিমধ্যে ঘোষণা করেছে।’ এই ঘোষণার পরেই ট্রাম্প উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে সমাজমাধ্যমে লেখেন, ‘ইরান এখনই ঘোষণা করল যে, হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি খুলে দেওয়া হয়েছে। জাহাজ পারাপারের জন্য তা প্রস্তুত। ধন্যবাদ!’ ইসলামাবাদে দু’দেশের প্রথম দফার শান্তি বৈঠক ভেস্তে যাওয়ার পর দ্বিতীয় দফার আলোচনার পটভূমি কার্যত তৈরি হয়ে গেল এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে। ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান ও আমেরিকার মধ্যে সমঝোতার পথে অন্যতম বাধা ছিল লেবানন সংঘাত। সেই ‘কাঁটা’ উপড়ে ফেলায় এখন ৬০ দিনের মধ্যে স্থায়ী চুক্তির সম্ভাবনা দেখছেন তিনি। গত বৃহস্পতিবারই তিনি লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আওউন এবং ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে কথা বলে ১০ দিনের সংঘর্ষবিরতিতে রাজি করিয়েছেন। ট্রাম্পের দাবি, ‘সারা বিশ্বে ন’টি যুদ্ধ আমি থামিয়েছি। এটা দশম হতে চলেছে।’ এমনকি গত বছরের মে মাসে ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর ভারত ও পাকিস্তানের সংঘাতও তিনি থামিয়েছেন বলে দাবি করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তবে এই শান্তি প্রক্রিয়ার মধ্যেই দানা বেঁধেছে নতুন বিতর্ক। ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম আমেরিকার হাতে তুলে দিতে রাজি হয়েছে। গত বছর ইরানের তিনটি পরমাণুকেন্দ্রে মার্কিন হামলার ফলে সেই ইউরেনিয়াম মাটির নিচে চাপা পড়ে গিয়েছিল। ট্রাম্পের কথায়, শান্তি ফেরাতে ইরান সব শর্ত মেনে নিয়েছে। যদিও এই দাবি সরাসরি উড়িয়ে দিয়েছে তেহরান। ইরানের স্পিকার মোহম্মদ বাকের কালিবাফের ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, ‘কোনও ধরনের পারমাণবিক উপাদান আমেরিকার হাতে দেওয়া হবে, এ ধরনের কোনও আলোচনাই হয়নি!’ ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ট্রাম্পের এই দাবিকে ‘অলীক স্বপ্ন’ বলে উপহাস করেছে। বিতর্ক থাকলেও পশ্চিম এশিয়ায় বারুদের গন্ধ কমতে শুরু করেছে। রয়টার্স জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহান্তেই দু’দেশের প্রতিনিধিরা ফের আলোচনায় বসতে পারেন। ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, সব ঠিক থাকলে চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য তিনি নিজেই ইসলামাবাদ যেতে পারেন। আপাতত ১০ দিনের এই সাময়িক স্বস্তি স্থায়ী শান্তিতে পরিণত হয় কি না, সেদিকেই তাকিয়ে বিশ্ব।


 

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি:

আজকের খবর