নয়া জামানা ৷৷ উত্তরবঙ্গ ব্যুরো: কালবৈশাখীর দাপটে কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়ল উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলা। বজ্রাঘাত, প্রবল ঝড়-বৃষ্টি, শিলাবৃষ্টি ও অগ্নিকাণ্ড—সব মিলিয়ে সাধারণ মানুষ থেকে কৃষক, দিনমজুর সকলেই পড়েছেন চরম দুর্ভোগে।
আলিপুরদুয়ার জেলার কুমারগ্রাম ব্লকের মারখাতা এলাকার ফুলপাকড়িতে বজ্রাঘাতে এক দিনমজুর পরিবারের জীবিকা এক লহমায় ধ্বংস হয়ে যায়। গোয়ালঘরে বজ্রপাতের ফলে পাঁচটি গরুর মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনায় আহত হয় পরিবারের এক নাবালক সদস্য, যাকে চিকিৎসার জন্য কামাখ্যাগুড়ি গ্রামীণ হাসপাতাল-এ ভর্তি করা হয়েছে। ব্লক প্রশাসনের তরফে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ত্রাণ সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে ময়নাগুড়ি এলাকায় দীর্ঘদিনের ধুলাবালি ও খরার পর রাতভর বৃষ্টিতে স্বস্তি পেয়েছেন কৃষক ও সাধারণ মানুষ। চা বাগান ও কৃষিজমিতে মাটি ভিজে ওঠায় যেমন কাজের গতি ফেরার আশা দেখা দিয়েছে, তেমনি কোথাও কোথাও ঝড়ে ফসল নুয়ে পড়ার খবরও মিলেছে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতির ছবি উঠে এসেছে ডুয়ার্স অঞ্চলে। জলপাইগুড়ি জেলার বানারহাট ও ধুপগুড়ি ব্লকের বিস্তীর্ণ এলাকায় প্রবল ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ঘরবাড়ি, ফসল ও বিদ্যুৎ পরিকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। দুরামারি এলাকায় বহু কাঁচা ও টিনের ঘরের চাল উড়ে যায়, গাছ উপড়ে পড়ে রাস্তা অবরুদ্ধ হয়। আলু, শিম, মটরশুঁটির মতো শীতকালীন সবজির বড় অংশ নষ্ট হওয়ায় দিশেহারা কৃষকেরা। প্রশাসনের সঙ্গে জনপ্রতিনিধিরা ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়েছেন।
এদিকে ঝড়-বৃষ্টির রাতেই ময়নাগুড়ির ভূজারীপাড়া এলাকায় ‘কালা জাদু’ আতঙ্কে চাঞ্চল্য ছড়ায়। বাড়ির উঠোনে তন্ত্রমন্ত্রের মতো সামগ্রী পড়ে থাকতে দেখে এলাকাজুড়ে কৌতূহল ও ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়।
অন্যদিকে নেপাল সীমান্ত লাগোয়া পানিট্যাঙ্কি এলাকায় মুষলধারে বৃষ্টির মধ্যেই একটি বন্ধ দোকানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। দমকলের তৎপরতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও দোকানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
সব মিলিয়ে কালবৈশাখীর এই দফায় উত্তরবঙ্গে প্রকৃতির তাণ্ডবে জনজীবন বিপর্যস্ত। ক্ষতিগ্রস্তরা দ্রুত সরকারি সহায়তার অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন।