নয়া জামানা ডেস্ক : নিরাপত্তার নিশ্ছিদ্র বলয় নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জন্য তৈরি হওয়া মূল মঞ্চটিই খুলে ফেলার নির্দেশ দিল এসপিজি। মঙ্গলবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা রক্ষী বাহিনীর এই নির্দেশে শোরগোল পড়ে গিয়েছে গেরুয়া শিবিরে। মাটির গভীরে কোনো নাশকতার ছক লুকানো আছে কি না, তা অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে পরীক্ষা করে দেখতে চায় এসপিজি। আর সেই তল্লাশির স্বার্থেই তৈরি হয়ে যাওয়া কাঠামো সরানোর নিদান দেওয়া হয়েছে। হাতে সময় মাত্র তিন দিন, তার আগেই নতুন করে মঞ্চ গড়ার চ্যালেঞ্জ এখন বিজেপির সামনে। মঙ্গলবারই জেলায় জেলায় শেষ হচ্ছে বিজেপির ‘পরিবর্তন যাত্রা’। কলকাতায় সেই যাত্রার সমাপ্তি লগ্নে ব্রিগেডের ময়দান থেকে হুঙ্কার দেওয়ার কথা প্রধানমন্ত্রীর। গত রবিবার থেকেই জোরকদমে চলছিল মাঠ সাজানোর কাজ। তৈরি হয়ে গিয়েছিল বিশাল হ্যাঙার এবং তার তলায় লোহার স্তম্ভের ওপর কাঠের পাটাতন দেওয়া মূল মঞ্চ। কিন্তু মঙ্গলবার বিকেলে এসপিজি কর্তারা সভাস্থল পরিদর্শনে এসে বেঁকে বসেন। তাঁরা সাফ জানান, যেখানে মঞ্চ বাঁধা হয়েছে, তার নীচের মাটি পরীক্ষা করা জরুরি। মাটির ওপরের স্তরের পাশাপাশি গভীর স্তরেও তল্লাশি চালানো হবে। কোনো রকম বিপদের বিন্দুমাত্র ঝুঁকি নিতে নারাজ বাহিনী। তাই মঞ্চের কাঠামো সরিয়ে জায়গাটি ফাঁকা করার নির্দেশ দেওয়া হয়। এই নির্দেশের পর রাজু বন্দ্যোপাধ্যায়, অনল বিশ্বাসদের মতো বিজেপি নেতাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে দীর্ঘক্ষণ এসপিজি আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনা চালান রাজু। হ্যাঙারের ভেতর এবং মঞ্চের পিছন দিক ঘুরে দেখেন আধিকারিকরা। এর পরেই মঞ্চ বাঁধার দায়িত্বে থাকা সংস্থাকে কাজ বন্ধ করে কাঠামো খোলার কথা জানানো হয়। তবে সূত্রের খবর, মাথার ওপরের হ্যাঙারটি হয়তো খোলার প্রয়োজন পড়বে না। শনিবারের এই সভা কেবল রাজনৈতিক নয়, এতে থাকছে প্রশাসনিক অংশও। মূল মঞ্চের পাশেই থাকছে সরকারি প্রকল্পের শিলান্যাস ও উদ্বোধনের জায়গা। মাঠজুড়ে শালখুঁটি, বাঁশের ব্যারিকেড আর মাইক বাঁধার কাজও চলছে দ্রুতগতিতে। বিজেপি নেতাদের একাংশের দাবি, মঞ্চ নতুন করে বাঁধতে খুব বেশি সময় লাগবে না। আসল চ্যালেঞ্জ হলো মাঠের অন্যান্য ব্যবস্থাপনাগুলো সময়মতো শেষ করা। আপাতত এসপিজির ছাড়পত্রের অপেক্ষায় থমকে থাকল মূল মঞ্চের কাজ।