নয়া জামানা ডেস্ক : দামামা বেঁচে গিয়েছে বঙ্গ ভোটের। অপেক্ষা এখন শুধু নির্ঘণ্ট ঘোষণার।বঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে রাজ্যে এসে রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে বৈঠক শুরু করল নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ। সেই বৈঠকেই বাংলায় এক দফায় নির্বাচন করার দাবি তুলল বিরোধী শিবির। একইসঙ্গে ভোটার তালিকা, কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন এবং ভোটের স্বচ্ছতা নিয়ে একাধিক দাবি তুলে ধরেছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল।
সোমবার সকালে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের নেতৃত্বে কমিশনের ফুল বেঞ্চ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসে। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যের সামগ্রিক পরিস্থিতি, ভোটার তালিকা সংশোধন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং ভোটগ্রহণের পদ্ধতি নিয়ে এই বৈঠকে আলোচনা হয়।
বৈঠকের শুরুতেই বিজেপির প্রতিনিধি দলের সঙ্গে আলোচনা করেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার। বিজেপির প্রতিনিধি দলে ছিলেন তাপস রায়, শিশির বাজোরিয়া এবং জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। দীর্ঘ সময় ধরে চলা বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিজেপি নেতা শিশির বাজোরিয়া রাজ্য পুলিশের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তাঁর অভিযোগ, রাজ্যে সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন নিশ্চিত করতে রাজ্য পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তাদের আস্থা নেই।
বিজেপির দাবি, প্রতিটি বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে যাতে ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন। এছাড়াও কেন্দ্রীয় বাহিনীর রুট মার্চের বিষয়েও কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে বলে জানান তিনি। তাঁর অভিযোগ, রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী পৌঁছালেও অনেক ক্ষেত্রে তাদের কার্যত সক্রিয় ভূমিকা দেখা যাচ্ছে না। সেই বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকে নজরে রাখতে বলা হয়েছে।
শুধু নিরাপত্তাই নয়, ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বাড়াতেও একাধিক প্রস্তাব দিয়েছে বিজেপি। দলের দাবি, প্রতিটি বুথে ওয়েব ক্যামেরা বা নজরদারির ব্যবস্থা রাখতে হবে যাতে ভোটগ্রহণের পুরো প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণে রাখা যায়। পাশাপাশি নির্বাচন খুব বেশি দফায় না করার আবেদনও জানানো হয়েছে কমিশনের কাছে। বিজেপির মতে, পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘ সময় ধরে বহু দফায় ভোটগ্রহণের বদলে সর্বাধিক এক বা দুই দফায় নির্বাচন সম্পন্ন করা উচিত।
অন্যদিকে বামফ্রন্টের পক্ষ থেকেও একদফায় ভোটের দাবিই জানানো হয়েছে। বাম প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন মহম্মদ সেলিম। কমিশনের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি জানান, বাংলায় এক দফায় ভোট করানোই সবচেয়ে উপযুক্ত বলে তাদের মত। তবে প্রয়োজনে সর্বোচ্চ দু’দফায় নির্বাচন হলেও তাদের আপত্তি নেই বলেও কমিশনকে জানানো হয়েছে।
একইসঙ্গে ভোটার তালিকা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বামফ্রন্ট। মহম্মদ সেলিম জানান, প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটারের নাম বিচারাধীন অবস্থায় রয়েছে। দ্রুত সেই বিষয়টির নিষ্পত্তি করে পূর্ণাঙ্গ ভোটার তালিকা প্রকাশ করার দাবি জানানো হয়েছে। এছাড়াও যেসব বৈধ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে, তাদের নতুন করে সুযোগ দেওয়ার বিষয়েও কমিশনের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে।
এদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকেও ভোটার তালিকা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানানো হয়েছে। দলের প্রতিনিধিরা কমিশনকে জানিয়েছেন, একজন বৈধ ভোটারের নামও যাতে তালিকা থেকে বাদ না যায় তা নিশ্চিত করতে হবে।