কার্তিক ভান্ডারী, নয়া জামানা, বীরভূম : রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই বীরভূমের শক্তিপীঠ কঙ্কালীতলা মন্দিরকে ঘিরে একাধিক বিতর্ক সামনে এসেছে। আগেই বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের তরফে হিন্দু ধর্মাবলম্বী মানুষ ছাড়া অন্য ধর্মের মানুষের প্রবেশ নিষিদ্ধ করার দাবি ঘিরে শুরু হয়েছিল জোর চর্চা। তারপরেই লাভপুরের ফুল্লরাতলা ও লক্ষ্মী মন্দির, পাশাপাশি নানুরের বিশালাক্ষী ও রক্ষাকালী মন্দিরেও প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত ব্যানার টাঙানো হয়। একইসঙ্গে ওই সমস্ত মন্দিরে শুদ্ধিকরণ কর্মসূচিরও আয়োজন করা হয় বলে জানা গিয়েছে। কোথাও বিশেষ পুজো, কোথাও আবার হোম-যজ্ঞের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয় ধর্মীয় আচার। এই ঘটনাগুলিকে কেন্দ্র করে জেলাজুড়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক চর্চা। একাংশের দাবি, মন্দিরের পবিত্রতা ও ধর্মীয় পরিবেশ বজায় রাখতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে কঙ্কালীতলা এলাকার স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্যোগে মন্দির চত্বরে অনুষ্ঠিত হল শুদ্ধিকরণ কর্মসূচি। গঙ্গাজল দিয়ে মন্দির চত্বর ধোয়ার পাশাপাশি করা হয় হোম যজ্ঞ ও বিশেষ পুজো-অর্চনা। ভোর থেকেই মন্দির এলাকায় ভক্ত ও স্থানীয়দের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো ।শুধু কঙ্কালীতলা মন্দিরই নয়, এদিন কাশীশ্বর মহাদেব মন্দির, রুরু ভৈরব মন্দির, বজরংবালি মন্দির, ষষ্ঠীমাতা মন্দির এবং জগন্নাথ মন্দিরেও বিশেষ আচার পালিত হয়। মন্ত্রোচ্চারণ, ধূপ-ধুনো ও পূজার্চনায় মুখর হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। মন্দিরের সেবাইত গৌতম চৌধুরী বলেন, আমরা স্থানীয়দের নিয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছি মন্দির চত্বরে কোন রাজনৈতিক বিষয় ঢুকবে না। গঙ্গা থেকে আমরা সঙ্গমের জল নিয়ে এসে মায়ের মন্দির সহ প্রাঙ্গনে সব মন্দিরে অভিষেক করেছি। সারা বাংলা সহ বিশ্বের মানুষের মঙ্গলের জন্য পুজো অর্চনা হোম যজ্ঞ, ভান্ডারার আয়োজনও করা হয়েছিল। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, কঙ্কালীতলা একটি পবিত্র তীর্থস্থান। সেখানে কোনও রাজনৈতিক রং যেন না লাগে। তাঁদের কথায়, মন্দিরে রাজনীতির প্রবেশ না হোক, মন্দির মন্দিরের জায়গাতেই থাকুক। তবে এদিনের অনুষ্ঠানে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি বিজেপির বেশ কিছু কর্মী-সমর্থকদেরও উপস্থিত থাকতে দেখা যায়।বিজেপির মন্ডল সভাপতি বিধান মাল বলেন, আমরা কঙ্কালীতলায় রাজনীতি চাই না। বিগত দিনে যা হয়েছে সেটা যেন আর না হয়। প্রত্যেক সনাতনী মানুষদের কাছে আমাদের অনুরোধ মায়ের স্থানে আসুন পুজো দেন। এখানে কোন রাজনীতি থাকবে না। আমরা দূর থেকেই মায়ের এই সুন্দর অনুষ্ঠান দেখে মনে তৃপ্তি পেলাম।
ছয় বছর পর খুলছে ষাঁড়েশ্বর মন্দির, পুনঃপ্রতিষ্ঠায় বিষ্ণুপুর জুড়ে ভক্তির জোয়ার