কুশল রায় ৷৷ নয়া জামানা ৷৷ শিলিগুড়ি : পাহাড়ের রাজনীতিতে বিমল গুরুং-এর দাপট ও লাগাতার আক্রমণাত্মক মন্তব্যে বিজেপির অন্দরেই ক্রমশ বাড়ছে ক্ষোভ। দলের একাংশের অভিযোগ, অযৌক্তিক ও উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে তিনি পাহাড়ের রাজনৈতিক আবহ অকারণে গরম করছেন। শুধু তাই নয়, বিরোধী নেতাদের নিয়ে করা মন্তব্যে দলের অস্বস্তিও বাড়ছে। অনেকের মত, দলের শীর্ষস্তর থেকে অবিলম্বে বিমলকে সংযত থাকার স্পষ্ট বার্তা দেওয়া জরুরি।
শুক্রবার সিংমারি পার্টি অফিসে গোর্খাল্যান্ড পার্সোনেলদের নিয়ে বৈঠকে বিমলের একটি মন্তব্য ঘিরে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, অনীত থাপা এবং বিনয় তামাং-কে দেখলে ‘থুতু ছেটাবেন’। এই বক্তব্য পাহাড়ের রাজনৈতিক মহলে নিন্দার ঝড় তুলেছে। মন্তব্যটিকে উসকানিমূলক আখ্যা দিয়ে অনীত থাপা দার্জিলিং সদর থানা-য় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর অভিযোগ, এমন কথাবার্তা পাহাড়ের শান্ত পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা।
এদিকে বিজেপির পার্বত্য শাখার সভাপতি সঞ্জীব লামা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, বিমলের বক্তব্যের দায় দল নেবে না। তাঁর কথায়, বিমলের দল গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা বিজেপির নির্বাচনি সহযোগী হলেও এর বাইরে সাংগঠনিক কোনও সম্পর্ক নেই। অন্যদিকে মোর্চার সাধারণ সম্পাদক রোশন গিরি দাবি করেন, দলের পক্ষ থেকে কোনও অন্যায় বা অসংযত মন্তব্য করা হয়নি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০০৭ সালে দল গঠনের পর দ্রুত উত্থান ঘটলেও ২০১৭-র হিংসাত্মক আন্দোলনের পর বিমলের রাজনৈতিক ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে। ২০২০ সালে তৃণমূলের হাত ধরে পাহাড়ে ফিরেও তিনি সংগঠিত শক্তি গড়তে ব্যর্থ হন। ২০২২ সালের জিটিএ ও পরবর্তী পঞ্চায়েত ভোটেও ফল শূন্য ছিল। সেই প্রেক্ষিতেই এবারের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির সঙ্গে জোটে যান বিমল। বিজেপি পাহাড়ের তিনটি আসনে জয় পেলেও সেই সাফল্যকে বিমল নিজেদের কৃতিত্ব হিসেবে তুলে ধরছেন।
ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকেই সাংবাদিক বৈঠক, মিছিল ও জনসভায় একের পর এক হুঙ্কারে তিনি কার্যত জিটিএ ও অনীত থাপার দলকে নিশানা করছেন। তবে বিজেপির কার্সিয়াং বিধায়ক সোনম লামা-র বক্তব্যে দলের অবস্থান স্পষ্ট। তাঁর মতে, রাজনৈতিক বিরোধ থাকলেও এমন ভাষা শোভনীয় নয় এবং দলীয় নেতৃত্বের উচিত বিমলকে সতর্ক করা।
সব মিলিয়ে, পাহাড়ে বিজেপির জয়ের পরও বিমল গুরুংয়ের আক্রমণাত্মক রাজনীতি এখন দলের জন্য অস্বস্তির কারণ হয়ে উঠছে—এমনটাই মত রাজনৈতিক মহলের।