তারিক আনোয়ার, নয়া জামানা,বীরভূম: দেশজুড়ে শিক্ষাক্ষেত্রে দুর্নীতি, নিয়োগে অনিয়ম এবং বিভিন্ন সর্বভারতীয় পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিতর্ক যখন তুঙ্গে, সেই আবহেই শনিবার সিউড়ি শহরে প্রতিবাদ মিছিল করল এসএফআই ও ডিওয়াইএফআই।মিছিলের অন্যতম ইস্যু ছিল দিল্লির যন্তর মন্তরে অনশনরত সমাজকর্মী ও উদ্ভাবক সোনম ওয়াংচুককে পুলিশি হস্তক্ষেপে হাসপাতলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা। সংগঠনের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক আন্দোলনের উপর এই ধরনের পদক্ষেপ অত্যন্ত উদ্বেগজনক।হাতে ব্যানার, প্ল্যাকার্ড ও লাল পতাকা নিয়ে ছাত্র-যুব সংগঠনের কর্মী-সমর্থকেরা সিউড়ি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা পরিক্রমা করেন। মিছিল থেকে শিক্ষায় স্বচ্ছতা, দুর্নীতিমুক্ত নিয়োগ, যোগ্য চাকরিপ্রার্থীদের অধিকার নিশ্চিত করা এবং গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মর্যাদা রক্ষার দাবি জানানো হয়।সম্প্রতি সোনম ওয়াংচুক দিল্লির যন্তর মন্তরে অনশন শুরু করেন।আন্দোলনকারীদের দাবি, নিট-সহ বিভিন্ন পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস, শিক্ষাব্যবস্থায় অনিয়ম এবং জবাবদিহির অভাবের বিরুদ্ধে তিনি শান্তিপূর্ণ অবস্থান নিয়েছিলেন। টানা ২০ দিন অনশনের পর শনিবার ভোরে অনশনের ২১তম দিনে তাঁকে যন্তর মন্তর থেকে দিল্লি পুলিশ হাসপাতালে নিয়ে যায়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, তাঁকে জোর করে অনশন মঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে দিল্লি পুলিশের দাবি, তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় আদালতের নির্দেশ ও চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
এই ঘটনাকে সামনে রেখেই সিউড়ির প্রতিবাদ মিছিল থেকে কেন্দ্রের ভূমিকার সমালোচনা করেন এসএফআই ও ডিওয়াইএফআই নেতৃত্ব। তাঁদের বক্তব্য, শিক্ষাক্ষেত্রে দুর্নীতি ও নিয়োগে অনিয়মের বিরুদ্ধে যে গণআন্দোলন চলছে, তা দমন করার পরিবর্তে সমস্যার সমাধানে উদ্যোগী হওয়া উচিত।ডিওয়াইএফআই-এর বীরভূম জেলা সভাপতি রুদ্রদেব বর্মন বলেন,
“শিক্ষায় দুর্নীতি এবং বিভিন্ন নিয়োগে দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমাদের এই আন্দোলন চলছে এবং আগামী দিনেও চলবে। দেশের লক্ষ লক্ষ ছাত্র-যুবকের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হয়েছে। নিট-সহ বিভিন্ন পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় সাধারণ মানুষের আস্থা ক্ষুণ্ণ হয়েছে। আজ দিল্লিতে অনশনরত সমাজকর্মী ও বিজ্ঞানী সোনম ওয়াংচুককে যেভাবে অনশন মঞ্চ থেকে দিল্লি পুলিশ তুলে নিয়ে গেছে, আমরা তার তীব্র নিন্দা জানাই। গণতান্ত্রিক আন্দোলনের উপর এই ধরনের হস্তক্ষেপ সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক ও অগণতান্ত্রিক। সরকারের উচিত আন্দোলনকারীদের দাবি শোনা এবং শিক্ষাব্যবস্থাকে দুর্নীতিমুক্ত করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা।”মিছিলে উপস্থিত ছাত্র-যুব কর্মীদের দাবি, শিক্ষা ও কর্মসংস্থান সংক্রান্ত প্রশ্নে দেশের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, তা ক্রমশ বিস্তৃত হচ্ছে। তাঁদের মতে, প্রশ্নপত্র ফাঁস, নিয়োগে অনিয়ম এবং দুর্নীতির অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের পাশাপাশি দোষীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে, শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অধিকার রক্ষা করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব বলেও তাঁরা দাবি করেন।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং গণতান্ত্রিক অধিকার—এই তিনটি বিষয়কে সামনে রেখে ছাত্র-যুব সংগঠনগুলি আগামী দিনে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটতে পারে। সেই আবহেই সিউড়ির এই প্রতিবাদ কর্মসূচি বৃহত্তর জাতীয় ইস্যুর সঙ্গে স্থানীয় আন্দোলনকে যুক্ত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা বহন করল।