তারিক আনোয়ার,নয়া জামানা,বীরভূম:নিজের গ্রাম রঘুনাথপুরেই থাকেন সাঁইথিয়া বিধানসভার বিধায়ক তথা সকলের প্রিয় ‘মাস্টারমশাই’ কৃষ্ণকান্ত সাহা। জন প্রতিনিধি হওয়ার পরও গ্রামের মানুষের সঙ্গে তাঁর আত্মিক সম্পর্ক আজও অটুট। প্রতি বছরের মতো এবারও রথযাত্রা উপলক্ষে গ্রামের কচিকাঁচাদের সঙ্গে আনন্দঘন সময় কাটাতে দেখা গেল তাঁকে।গ্রামের ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের আবদার ছিল, “মাস্টারমশাইকে নিয়ে রথ টানতে হবে।” সেই আবদারই সাদরে মেনে নিয়ে শিশুদের সঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে রথের দড়ি ধরলেন কৃষ্ণকান্ত সাহা। রথ টানার পাশাপাশি শিশুদের সঙ্গে গল্প, হাসি-আড্ডা ও খুনসুটিতে যেন তিনিও ফিরে গেলেন নিজের শৈশবের দিনগুলোতে।
স্থানীয়দের কথায়, এটি নতুন কোনও ঘটনা নয়। প্রতিবছরই গ্রামের কচিকাঁচারা মাস্টারমশাইয়ের সঙ্গে দেখা করতে আসে, তাঁর সান্নিধ্যে কিছুটা সময় কাটায়। গৃহশিক্ষক হিসেবে যে ভালোবাসা তিনি অর্জন করেছেন, বিধায়ক হওয়ার পরও সেই সম্পর্কের কোনও পরিবর্তন ঘটেনি।আজও তিনি শিশুদের কাছে আগের সেই স্নেহময় ‘মাস্টারমশাই’।একজন শিক্ষক কেবল পাঠ্যবইয়ের শিক্ষা দেন না, তিনি সমাজ গড়ার কারিগর। কৃষ্ণকান্ত সাহার জীবনযাত্রা সেই মূল্যবোধেরই প্রতিফলন। বিধায়কের দায়িত্ব সামলানোর পাশাপাশি গ্রামের শিশুদের সঙ্গে সময় কাটিয়ে তিনি যে আন্তরিকতা, সরলতা ও মানবিকতার পরিচয় দিচ্ছেন, তা সমাজের কাছে এক ইতিবাচক বার্তা বহন করে। জননেতা হিসেবে মানুষের কাছে পৌঁছে যাওয়ার পাশাপাশি একজন শিক্ষকের মানবিক সত্তাকেও তিনি সমানভাবে লালন করে চলেছেন।কৃষ্ণকান্ত সাহার বক্তব্য “আমি আজও নিজেকে প্রথমে একজন শিক্ষক, তারপর বিধায়ক বলে মনে করি। এই গ্রামের মানুষ, বিশেষ করে ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা আমার পরিবারেরই অংশ। প্রতিবছর ওদের সঙ্গে রথ টানার আনন্দ ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। একজন শিক্ষক যদি সমাজের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের পাশে থাকতে পারেন, সেটাই তাঁর সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। মানুষের ভালোবাসাই আমাকে আরও বেশি করে মানুষের জন্য কাজ করার অনুপ্রেরণা দেয়।”