নয়া জামানা, কোচবিহার : একটার পর একটা বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন কামতাপুর পিপলস পার্টির অনন্ত মহারাজ তথা নগেন রায়। শনিবার দিনহাটায় এক সভা থেকে তিনি কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে সরব হন। পাশাপাশি কোচবিহারের মহারাজা জগদ্দীপেন্দ্র নারায়ণ ভূপ বাহাদুরকে নিয়েও বিতর্কিত দাবি করেন তিনি। অনন্ত মহারাজের দাবি, মহারাজা জগদ্দীপেন্দ্র নারায়ণ না থাকলে ভারতবর্ষ স্বাধীনতা লাভ করতো না। তিনি বলেন, প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় হিটলারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে মহারাজা জগদ্দীপেন্দ্র নারায়ণ বিশ্বের সকল দেশকে স্বাধীন করেছিলেন। তাঁর কথায়, সেই সময় যুদ্ধ করার সময় জার্মানদের কাছে যে সকল সৈন্য যুদ্ধবন্দী হয়েছিল, তাদের নিয়েই নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু আজাদ হিন্দ ফৌজ গঠন করেন। কিন্তু তার অপব্যবহার করা হয়।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, অন্যান্য দেশে তো গান্ধী-নেহেরু ছিল না। তাহলে সেই সকল দেশ স্বাধীন হলো কি করে? আমাদের মহারাজা সেই সকল দেশ স্বাধীন করেছেন। নগেন রায়ের আরও বিস্ফোরক মন্তব্য, সেই সময় মহারাজা জগদ্দীপেন্দ্র নারায়ণ ভূপ বাহাদুরকে যদি ভারতের সম্রাট করা হতো, তাহলে পাকিস্তান-বাংলাদেশ তৈরি হতোই না। কোটি কোটি মা-বোনের ধর্ষণও হতো না। চুক্তি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভারত সরকার আমাদের সাথে চুক্তি ভঙ্গ করেছে। দেশের সকল সরকার আমাদের সাথে অন্যায় করেছে। ভারত ভুক্তি চুক্তি অনুযায়ী কোনও শর্তকেই তারা মান্যতা দেয়নি। বর্তমান সরকারও নয়।
রাজনীতি প্রসঙ্গে অনন্ত মহারাজ দাবি করেন, উত্তরবঙ্গে বিজেপিকে তিনিই নিয়ে এসেছেন। কিন্তু সরকার গঠনের পরেও তাকে কোনও সম্মান দেওয়া হয়নি। ২০২৪ সালে কোচবিহারের রাসমেলা মাঠে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সভা করতে এসে তাকে আলাদা করে ডেকে বলেছিলেন, মহারাজ গুসা মত কিজিয়ে! আপহি বঙ্গাল চালায়েঙ্গে। কিন্তু বিজেপি সেই প্রতিশ্রুতি রাখেনি বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর এই মন্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গেছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, ভোটের আগে অনন্ত মহারাজকে একবার বিজেপি শিবিরে আবার একবার তৃণমূল শিবিরে যাতায়াত করতে দেখা গেছে। প্রাক্তন তৃণমূল সরকার তাকে বঙ্গরত্ন পুরস্কারেও সম্মানিত করেছিল। এর ফলে তার রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের বক্তব্য, বিজেপিতে তার গুরুত্ব কিছুটা কমেছে। তাই নিজের রাজনৈতিক অবস্থানকে শক্তিশালী করতে এবং কর্মীদের মনোবল বাড়াতে এখন এই ধরনের বিতর্কিত মন্তব্য করছেন তিনি।
অন্যদিকে কামতাপুর পিপলস পার্টির কর্মীরা বলছেন, অনন্ত মহারাজ কোচবিহারের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের কথা তুলে ধরছেন। মহারাজার অবদানকে ছোট করে দেখা হচ্ছে বলেই তিনি ক্ষুব্ধ। এদিনের সভায় অনন্ত মহারাজ আরও বলেন, উত্তরবঙ্গের উন্নয়ন নিয়ে বারবার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে কিছুই হয়নি। তিনি দাবি করেন, চুক্তির শর্ত মেনে কোচবিহারকে বিশেষ মর্যাদা দিতে হবে। তাঁর মন্তব্যের পাল্টা এখনও পর্যন্ত বিজেপি বা তৃণমূলের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তবে রাজনৈতিক মহলের ধারণা, ভোটের আগে এই ধরনের মন্তব্য উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন করে চর্চার জন্ম দেবে।