তনয় কুমার মিশ্র,নয়া জামানা,মালদা: ডিজিটাল শিক্ষার ক্ষেত্রে নতুন নজির গড়েছে পশ্চিমবঙ্গ। কেন্দ্রীয় সরকারের দুটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্ল্যাটফর্ম—দিক্ষা এবং প্রশাস্ত অ্যাপ ২.০—দুটিতেই রাজ্য উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। এই সাফল্যের পেছনে মালদা জেলার শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছে।কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রকের প্রকাশিত দিক্ষা জুলাই ২০২৬ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, চলতি বছরের ১ থেকে ১৫ জুলাই পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গে দিক্ষা প্ল্যাটফর্মে গড় দৈনিক সক্রিয় ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১,০০,৪৩৮। যেখানে জাতীয় গড় মাত্র ৪,৯৩৮। অর্থাৎ, পশ্চিমবঙ্গের গড় ব্যবহারকারীর সংখ্যা জাতীয় গড়ের তুলনায় প্রায় ২০ গুণ বেশি।
সর্বভারতীয় তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে উত্তরপ্রদেশ (১২,১৮৯), তৃতীয় স্থানে বিহার (৮,৬৯৩) এবং চতুর্থ স্থানে হরিয়ানা (৭,৬৪৩)। এই পরিসংখ্যান স্পষ্টভাবে দেখায় যে দিক্ষা ব্যবহারের ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গ অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় অনেকটাই এগিয়ে।
দিক্ষা হল কেন্দ্রীয় সরকারের জাতীয় ডিজিটাল শিক্ষা প্ল্যাটফর্ম, যেখানে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা বিনামূল্যে পাঠ্যবই, ভিডিও লেসন, কুইজ এবং অন্যান্য শিক্ষাসামগ্রী ব্যবহার করতে পারেন।মালদা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের এআই নয়ন কুমার দাস বলেন,
ডিজিটাল শিক্ষার ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গ যে সাফল্য অর্জন করেছে, তা আমাদের সকলের কাছে অত্যন্ত গর্বের। শিক্ষা দপ্তরের একজন আধিকারিক হিসেবে এই সাফল্যে আমি গর্বিত।অন্যদিকে, প্রশাস্ত অ্যাপ ২.০-এ শিক্ষক নিবন্ধনের ক্ষেত্রেও পশ্চিমবঙ্গ উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য তৈরি এই জাতীয় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে শিক্ষক নিবন্ধনের নিরিখে পশ্চিমবঙ্গ দেশের মধ্যে তৃতীয় স্থান অধিকার করেছে। প্রথম স্থানে রয়েছে তামিলনাড়ু এবং দ্বিতীয় স্থানে চণ্ডীগড়।গত ১০ জুলাই থেকে মালদা জেলার বিভিন্ন সার্কেল অফিসে প্রশাস্ত অ্যাপ ২.০-সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। দুটি পর্যায়ে উচ্চ বিদ্যালয়, জুনিয়র উচ্চ বিদ্যালয়, প্রাথমিক বিদ্যালয়, এমএসকে ও এসএসকে-র প্রধান শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং শিক্ষক-ইন-চার্জরা এই প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করেন।জেলার বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের কো-অর্ডিনেটর পঙ্কজভূষণ দাস জানান,
পশ্চিমবঙ্গে ইতিমধ্যে ৩,০০০-এরও বেশি শিক্ষক প্রশাস্ত অ্যাপে নিবন্ধন করেছেন। এর মধ্যে প্রায় ২,০০০ জনই মালদা জেলার শিক্ষক। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে জেলার সমস্ত শিক্ষকের নিবন্ধন সম্পূর্ণ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।প্রশাস্ত অ্যাপ ২.০ বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের শনাক্তকরণ, তথ্য সংরক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে তৈরি একটি জাতীয় স্তরের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম।এই সাফল্য প্রসঙ্গে মালদার জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক (ডিআই) মলয় মণ্ডল বলেন,আমরা অত্যন্ত গর্বিত। রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের ডিজিটাল উদ্যোগগুলিকে মালদার শিক্ষকরা যেভাবে গ্রহণ করেছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়।দিক্ষা-তে পশ্চিমবঙ্গের শীর্ষস্থান এবং প্রশাস্ত অ্যাপে মালদার প্রায় ২,০০০ শিক্ষক নিবন্ধন প্রমাণ করে, আমাদের শিক্ষকরা প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে প্রস্তুত।তিনি আরও বলেন, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। প্রশাস্ত অ্যাপের মাধ্যমে তাদের তথ্য সহজেই কেন্দ্রীয় স্তরে পৌঁছাবে এবং ভবিষ্যতে তারা আরও উন্নত পরিষেবা পাবে। আগামী দিনে মালদাকে আমরা শুধু সংখ্যার নিরিখে নয়, গুণগত মানের দিক থেকেও দেশের অন্যতম সেরা জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।
দিক্ষা-তে সর্বোচ্চ সক্রিয় ব্যবহারকারী এবং প্রশাস্ত অ্যাপ ২.০-এ শিক্ষক নিবন্ধনের সাফল্য প্রমাণ করছে যে পশ্চিমবঙ্গ, বিশেষ করে মালদা জেলা, ডিজিটাল শিক্ষার ক্ষেত্রে দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে। শিক্ষকদের আন্তরিক অংশগ্রহণ ও প্রযুক্তির ইতিবাচক ব্যবহারের ফলে এই সাফল্য ভবিষ্যতের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও সমৃদ্ধ করবে এবং মালদার শিক্ষাক্ষেত্রকে জাতীয় স্তরে আরও উজ্জ্বল করে তুলবে।