নয়া জামানা ডেস্ক : রাজ্যে পালাবদলের হাওয়া লাগতেই কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে নিজেদের জমি শক্ত করতে কোমর বেঁধে নামছে অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (এবিভিপি)। দীর্ঘ ন’বছর থমকে থাকা ছাত্র সংসদ নির্বাচন দ্রুত ফেরানোর পক্ষেই সওয়াল করছে তারা। সংগঠনের লক্ষ্য, রাজ্যের প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দ্রুত শাখা বিস্তার করা। সরকার গঠনের পরেই লিংডো কমিশনের সুপারিশ মেনে নিয়মিত ছাত্র ভোটের দাবি তুলবে গেরুয়া ছাত্র সংগঠন। রাজ্যে বিজেপি সরকার আসতে চলেছে জেনেই সমাজমাধ্যমে জল্পনা ছড়িয়েছিল যে, এবার থেকে ক্যাম্পাস রাজনীতিমুক্ত হবে। কিন্তু সেই সম্ভাবনা নস্যাৎ করে এবিভিপি জানিয়েছে, তারা ছাত্র রাজনীতির বিরোধী নয়। বর্তমানে রাজ্যের প্রায় অর্ধেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তাদের উপস্থিতি রয়েছে। উত্তরবঙ্গ বা পুরুলিয়া-বাঁকুড়ায় সংগঠন মজবুত থাকলেও এবার কলকাতা ও শহরতলিতেও ডালপালা মেলতে চায় তারা। সংগঠনের রাষ্ট্রীয় মিডিয়া সেলের সহ-আহ্বায়ক দেবাঞ্জন পাল জানান, গত কয়েক দিনেই আরও ১০ শতাংশ কলেজে শাখা খোলা হয়েছে। তাঁর দাবি, ‘তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সদস্যেরা সব থেকে বেশি যোগ দিতে চাইছেন আমাদের সংগঠনে। কিন্তু নেতৃত্বের তরফে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, ক্যাম্পাসের পরিবেশ যাঁরা এত দিন নষ্ট করে এসেছেন, ভাবমূর্তি খারাপ তাঁদের কোনও ভাবেই সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত করা যাবে না।’ বিগত আট-নয় বছর ছাত্র ভোট না হওয়ায় ক্ষুব্ধ এবিভিপি। দেবাঞ্জনের কথায়, ‘তৃণমূল স্বাভাবিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি ধ্বংস করেছে আমরা সেটা ফিরিয়ে আনব।’ তবে এই সক্রিয়তা নিয়ে বিঁধতে ছাড়েনি এসএফআই। সংগঠনের রাজ্য সম্পাদক দেবাঞ্জন দে বলেন, ‘ছাত্র সংসদ নির্বাচনের জন্য দীর্ঘ ন’বছর লড়াই চালাচ্ছি আমরা। এবিভিপি-কে খুঁজে পাওয়া যায়নি আগে। এখন সরকারি ক্ষমতা কাজে লাগিয়ে ক্যাম্পাস দখলে নেমেছে।’ অন্যদিকে টিএমসিপি-র রাজ্য সভাপতি তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্য ছাত্র ভোটকে স্বাগত জানালেও সোমবারের ছাত্র সংঘর্ষের ঘটনায় সরব হয়েছেন। তাঁর মতে, ‘শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আসুক এবং পড়ুয়ারা নিজেদের মতো করে যেন ছাত্রভোটে যোগ দিতে পারে, তা সুনিশ্চিত করা সব থেকে জরুরি।’
ভোটলুটের বদলে সৌজন্যের লড়াই : গঙ্গার দু’পারে নজর কাড়লেন মিনাক্ষী-দীপ্সিতা