নয়া জামানা ডেস্ক : জাতীয় সঙ্গীতের সমান মর্যাদা পাচ্ছে ‘বন্দে মাতরম্’। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের এই কালজয়ী সৃষ্টিকে অসম্মান করলে এবার থেকে শ্রীঘর নিশ্চিত। পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির ঐতিহাসিক জয়ের ঠিক পরের দিনই এই বড়সড় সিদ্ধান্ত নিল মোদী মন্ত্রিসভা। মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বৈঠকে ‘জাতীয় সম্মান অবমাননা প্রতিরোধ আইন, ১৯৭১’ সংশোধনের প্রস্তাবে সিলমোহর দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ‘জন গণ মন’-এর মতো ‘বন্দে মাতরম্’-ও একই আইনি সুরক্ষা পাবে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার এই অনুমোদনের ফলে আইনের ৩ নম্বর ধারাটি সংশোধন হতে চলেছে। এতদিন জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ায় বাধা দিলে বা সমাবেশে বিঘ্ন ঘটালে তিন বছর পর্যন্ত জেল, জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান ছিল। এবার থেকে জাতীয় স্তোত্র বা রাষ্ট্রীয় গীতের অবমাননা করলেও একই কড়া শাস্তির মুখে পড়তে হবে অপরাধীকে। একবার অপরাধ করার পর দ্বিতীয়বার একই কাজ করলে নূন্যতম এক বছরের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। ইতিপূর্বে ২০০৫ সালে জাতীয় পতাকার অমর্যাদা রুখতে এই আইনটি একবার সংশোধন করা হয়েছিল। তখন কোমরের নীচে তেরঙা পরা বা রুমাল-বালিশে তার ব্যবহার নিষিদ্ধ হয়। এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে দীর্ঘ টালবাহানা রয়েছে। গত ডিসেম্বরে সংসদে ‘বন্দে মাতরম্’-এর সার্ধশতবর্ষ উপলক্ষে বিশেষ আলোচনায় এই সমমর্যাদার দাবি উঠেছিল। যদিও গানটির সবকটি স্তবক গাওয়া বাধ্যতামূলক করার কেন্দ্রের বিজ্ঞপ্তিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে কলকাতা হাই কোর্টে জনস্বার্থ মামলাও হয়। মূলত উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলিতে এই গানের কিছু অংশ নিয়ে আপত্তি ওঠে। মিজোরামের কিশোরী এস্থার নামতের কণ্ঠে গানটি শুনে প্রধানমন্ত্রী মুগ্ধ হলেও উত্তর-পূর্বের খ্রিস্টানপ্রধান ও জনজাতি অধ্যুষিত এলাকাগুলি ‘তুমি বিদ্যা, তুমি ধর্ম/তুমি হৃদি তুমি মর্ম’ কিংবা ‘তোমার প্রতিমা গড়ি মন্দিরে মন্দিরে’-এর মতো লাইনগুলি নিয়ে আপত্তি তোলে। হিন্দু দেবী বন্দনার উপস্থিতিতে তারা বিরক্ত ছিল। তবে যাবতীয় বিতর্ককে পাশে সরিয়ে বাংলা ও বাঙালির আবেগের এই গানকে এবার জাতীয় সম্মানের সর্বোচ্চ আসনে বসাল কেন্দ্র। বাংলায় পদ্ম শিবিরের বিপুল জয়ের পরেই দিল্লির এই পদক্ষেপ রাজনৈতিক ভাবে অত্যন্ত ‘তাৎপর্যপূর্ণ’ বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।সাহিত্যসম্রাটের সৃষ্টিকে রক্ষা করতে সরকার এখন বদ্ধপরিকর।
জাতীয় সড়কে নামল মোদির হারকিউলিস বিমান, ইতিহাস গড়লেন প্রধানমন্ত্রী