নয়া জামানা, ডুয়ার্স: বক্সা ব্যাঘ্র-প্রকল্পের জঙ্গলে বাঘ ফেরানোর তোড়জোড় শুরু করেছে রাজ্য বন দপ্তর। দপ্তর বণ্টনের পরেই বনমন্ত্রী মনোজকুমার ওরাওঁ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, সমস্ত বাধা কাটিয়ে আগামী ২৯ জুলাই ‘গ্লোবাল টাইগার ডে’-র দিন বক্সার জঙ্গলে বাঘ আসতে পারে। এই বিশেষ দিনে বক্সায় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং কেন্দ্রীয় পরিবেশমন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের উপস্থিত থাকার বিষয়টিও প্রায় নিশ্চিত। তবে বন দপ্তরের এই উচ্চাকাঙ্ক্ষী পরিকল্পনার পথে প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে তীব্র কর্মীসংকট।
জাতীয় ব্যাঘ্র সংরক্ষণ কর্তৃপক্ষের (এনটিসিএ) টেকনিকাল কমিটির জরুরি বৈঠকে বক্সার সামগ্রিক প্রস্তুতি নিয়ে একাধিক খামতির কথা উঠেছে। বনকর্তাদের মতে, ২০২৪ সালের খতিয়ান অনুযায়ী যেখানে ৪৮১ জন ফ্রন্টলাইন কর্মী থাকার কথা, সেখানে বর্তমানে কাজ করছেন মাত্র ২১২ জন। এই বিপুল শূন্যপদ নিয়ে বাঘের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। এছাড়া, ভরা বর্ষার মরশুমে বিহারের বাল্মীকি বা অসমের কাজিরাঙ্গা ও মানস জঙ্গল থেকে বাঘ ট্র্যাপ করে সুরক্ষিতভাবে উত্তরবঙ্গে নিয়ে আসা যথেষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ। বাঘ আনার আন্তর্জাতিক গাইডলাইন মানতে গিয়ে কী কী সমস্যা হতে পারে, বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে তার একটি তালিকা তৈরি করছে বন দপ্তর।
কর্মীসংকট মেটাতে বন দপ্তর একটি বিশেষ রূপরেখা তৈরি করেছে। আপাতত তিন মাসের জন্য অন্য ডিভিশন থেকে কর্মী এনে বক্সায় মোতায়েন করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, এবং এই সময়ের মধ্যেই নতুন কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া চালানো হবে। অন্যদিকে, এনটিসিএ পুরো পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে এবং জঙ্গলের কোর এলাকা থেকে মানুষের বসতি সরানোর কাজও খতিয়ে দেখছে। সব মিলিয়ে, ২৯ জুলাইয়ের মধ্যে সমস্ত সমস্যা কাটিয়ে বক্সায় বাঘ আনা কতটা সম্ভব হয়, এখন সেটাই দেখার।
আরও পড়ুন;
বাঘ ঢোকার আগেই সতর্কবার্তা! সুন্দরবনে প্রযুক্তির নতুন প্রহরী আনইডার্স