নয়া জামানা ডেস্ক : রাজ্য রাজনীতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখন ব্রাত্য, তিনি সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়েছেন। বুধবার সন্ধ্যায় রাজ্য নির্বাচন কমিশনের দফতরে সিইও-র সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে এমনই বিস্ফোরক দাবি করলেন শুভেন্দু অধিকারী। এদিন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে দরাজ সার্টিফিকেট দেওয়ার পাশাপাশি ভোট-পরবর্তী হিংসা দমনে কড়া হুঁশিয়ারি শোনা গেল ভবানীপুর ও নন্দীগ্রামের ‘অধিকারী’র গলায়। স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, বিজেপি সরকার ধর্ম-সম্প্রদায়ের ঊর্ধ্বে উঠে গুন্ডাদমন করবে। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনকে ‘ইন্সিডেন্ট ফ্রি’ বা হিংসামুক্ত অ্যাখ্যা দিয়ে কমিশনকে ধন্যবাদ জানান শুভেন্দু। এদিন স্ট্র্যান্ড রোডে কমিশনের দফতরে সিইও মনোজকুমার আগরওয়াল এবং পর্যবেক্ষকদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন তিনি। বেরিয়ে এসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, ‘যে ভাবে শান্তিতে দু’দফায় ভোট এবং গণনা হয়েছে, তাতে আমরা ধন্যবাদ জানাতে এসেছি।’ তাঁর দাবি, এর আগে ভোটাররা আতঙ্কে থাকতেন। এবার বিশেষ করে ভবানীপুরের মতো এলাকায় মানুষ নির্ভয়ে নিজের ভোট নিজে দিতে পেরেছেন। শুভেন্দুর কথায়, ‘আগে ভবানীপুরের যাঁরা ভোট দিতে ভয় পেতেন, তাঁরা অনেকে এ বার ভোট দিয়েছেন। ৪৫টি বড় হাউজ়িং ছিল। ২০টিতে ইনসাইড হাউজ্ণিং পোলিং বুথ এ বারই প্রথম হয়েছে। ভোটারদের অনেকেই আমার কাছে বলেছেন, এ বারই তাঁরা প্রথম বার নিজেদের ভোট নিজেরা দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন।’ বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীর ইস্তফা না-দেওয়া প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে শুভেন্দু তাকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে রাজি হননি। সরাসরি মমতাকে তোপ দেগে তিনি বলেন, ‘আমি কোনও মন্তব্যই করব না। সংবিধানে লেখা আছে। মাননীয় রাজ্যপাল, লোকভবন এ বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ করবেন বলে আশা করি।’ একই সঙ্গে তাঁর শাণিত আক্রমণ, ‘পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে উনি এখন অপ্রাসঙ্গিক। ওঁর জন্য বেশি বাক্য খরচের প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি না।’ ভোট-পরবর্তী হিংসার অভিযোগ নিয়ে ২০২১ ও ২০২৩-এর সঙ্গে তুলনা টেনে আনেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, অতীতের তুলনায় এবার হিংসার ঘটনা নগণ্য। তবুও একটি অশান্তিও বরদাস্ত করা হবে না। পুলিশের ডিজি-র সঙ্গে কথা বলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান, ২০২১ সালে ১২ হাজার এফআইআর ও ৫৭ জনের মৃত্যু হয়েছিল, যা এবার ৫০টিও ছাড়ায়নি। পুরনো ফাইল খোলার হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ‘ভবানী ভবনে গত বিধানসভা ভোট-পরবর্তী হিংসার ফাইল পড়ে আছে। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মঞ্জুলা চেল্লুরের নেতৃত্বে কমিশন কমিটি করে দিয়েছিল। ১০০ শতাংশ এফআরটি করে দিয়েছেন। সেই ফাইলগুলো খোলাব।’ রাজ্যে শান্তি বজায় রাখার আবেদন জানিয়ে শুভেন্দু হুঙ্কার দেন, ‘চোর-ডাকাতদের আইন অনুযায়ী শাস্তি হবে। অপেক্ষা করুন। এখনও কিছু গুন্ডা বাইরে রয়ে গিয়েছে। ভারতীয় জনতা পার্টির সরকার তৈরি হওয়ার পরে দলমত নির্বিশেষে, ধর্ম-সম্প্রদায়ের ঊর্ধ্বে উঠে গুন্ডাদমন হবে।’ তাঁর স্পষ্ট নির্দেশ, ‘পাপীদের পার্টি অফিসে কেউ হাত দেবেন না।’ এ প্রসঙ্গে তিনি মমতাকে খোঁচা দিয়ে বলেন, ২০২১-এর পর এমন সৌজন্য তাঁর মুখে শোনা যায়নি। একই সুরে সুর মিলিয়েছেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও। তিনি দাবি করেছেন, বর্তমান অশান্তিতে যাঁরা নাম জড়াচ্ছেন, তাঁরা আসলে বিজেপি ‘সাজা’ লোক। শমীকের কড়া হুঁশিয়ারি, ‘বিজেপির যত বড় নেতাই হোন, কেউ এ রকম করলে তাঁকে আমরা অ্যারেস্ট করাব। ছবি দিন, নাম দিন। আমি কথা দিচ্ছি ব্যবস্থা নেব। নইলে আমি সভাপতির পদ থেকে চলে যাব।’ সব মিলিয়ে নির্বাচন-পরবর্তী আবহে এখন শাসক-বিরোধীর আক্রমণ আর প্রতি-আক্রমণে তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। ফাইল ফটো।
মোদি বিরোধী মুখ মমতাই সেরা, সঞ্জয় বারুর নিবন্ধে শোরগোল জাতীয় রাজনীতিতে
|| শুভেন্দু || ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচন || মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় || রাজনীতি ||