নয়া জামানা ডেস্ক : ‘প্রচণ্ড বহুমত’ আর শুধু স্লোগান নয়, এখন রূঢ় বাস্তব। সব সংশয় ধুয়েমুছে দিয়ে বাংলায় বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে বিজেপি। এবার পালা উদযাপনের। আগামী শনিবার, পঁচিশে বৈশাখের সকালে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড সাক্ষী হতে চলেছে এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের। পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিজেপি সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানকে কার্যত ‘জাতীয় স্তরের কর্মসূচি’ হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে দিল্লির নেতৃত্ব। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের উপস্থিতিতে কলকাতার রাজপথে শনিবার মহাধুমধাম। বুধবার দুপুর থেকেই যুদ্ধের তৎপরতায় কাজ শুরু হয়েছে ব্রিগেডে। প্রস্তুতির সময় মেরেকেটে তিন-চার দিন। রবীন্দ্রজয়ন্তীর দিনেই বাংলার মসনদে বসতে চলেছেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি মঞ্চ আলো করে থাকবেন রাজনাথ সিংহ, নীতিন গডকড়ী, জেপি নড্ডাদের মতো প্রবীণ কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা। উপস্থিত থাকবেন দলের বর্তমান সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীনও। তবে কার মাথায় উঠবে রাজতিলক, তা নিয়ে এখনও রহস্য জিইয়ে রেখেছে বিজেপি। শুক্রবার ৮ মে নিউটাউনের বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে নবনির্বাচিত বিধায়কদের বৈঠকে সিলমোহর পড়বে সেই নামে। কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক অমিত শাহ এবং সহ-পর্যবেক্ষক হিসেবে ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহনচরণ মাঝির উপস্থিতিতেই ঘোষিত হবে নাম। পরের দিন নবনির্বাচিত নেতাই ব্রিগেডের মঞ্চ থেকে শপথ নেবেন। বাংলার এই জয়কে খাটো করে দেখতে নারাজ বিজেপি। দেশের ২১টি রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এখন পদ্ম-শাসন। দিল্লির পরিকল্পনা, সব ক’টি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবং উপমুখ্যমন্ত্রীদের শনিবারের ব্রিগেডে হাজির করা। বিশেষ করে যোগী আদিত্যনাথ, দেবেন্দ্র ফডণবীস, পুষ্কর সিংহ ধামী, নায়াব সিংহ সৈনী এবং মোহন যাদবদের মতো হেভিওয়েটদের আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে, যাঁরা বাংলার প্রচারে বারবার মাটি কামড়ে পড়েছিলেন। অসমে সদ্য নির্বাচন শেষ হওয়ায় সেখানকার নেতৃত্বের আসা নিয়ে সামান্য সংশয় থাকলেও চেষ্টার খামতি নেই। শপথের মঞ্চে মুখ্যমন্ত্রীর পাশাপাশি দু’জন উপমুখ্যমন্ত্রী এবং কয়েকজন মন্ত্রীরও শপথ নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা এখনই শপথ না-ও নিতে পারে। শনিবার সকাল ১০টা থেকে শুরু হবে এই মেগা অনুষ্ঠান। ভিড় সামলাতে তৎপর লালবাজার। নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হচ্ছে ব্রিগেড ও সংলগ্ন এলাকা। প্রায় তিন হাজার পুলিশ কর্মী মোতায়েন থাকছেন। ড্রোনে নজরদারির পাশাপাশি উঁচু বাড়ি থেকেও কড়া প্রহরা চলবে। মোতায়েন থাকবে কেন্দ্রীয় বাহিনীও। পঁচিশে বৈশাখ উপলক্ষে মূল মঞ্চের পাশেই তৈরি হচ্ছে সাংস্কৃতিক মঞ্চ, যেখানে রবীন্দ্রসঙ্গীত ও নানা সাংস্কৃতিক উপস্থাপনার পরিকল্পনা রয়েছে। ভিভিআইপি অতিথিরা মূল মঞ্চে থাকলেও দর্শকাসনেও হাজার হাজার চেয়ার পাতার কাজ শুরু হয়েছে। ভিড় টানতেও কোনও খামতি রাখছে না গেরুয়া শিবির। প্রতিটি বিধায়ককে অন্তত এক হাজার করে লোক আনার লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। যে সব আসনে বিজেপি জিততে পারেনি, সেখান থেকেও কর্মীদের আসতে বলা হয়েছে। রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের কথায়, ‘শপথের দিন কর্মসূচি কিছুটা দীর্ঘ হবে।’ বিজেপির লক্ষ্য, ব্রিগেড সমাবেশের দিন যতটা সময় লেগেছিল, শপথ অনুষ্ঠানকেও ততটাই বর্ণাঢ্য করে তোলা। তবে উৎসবের আবহের মধ্যেই শমীকের গলায় শোনা গিয়েছে কড়া সুর। ভোট-পরবর্তী হিংসা রুখতে বুধবারই নবান্নে গিয়ে মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিওয়ালার সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। সঙ্গে ছিলেন পর্যবেক্ষক সুনীল বনশল, সৌমিত্র খাঁরা। শমীকের স্পষ্ট বার্তা, ‘বিজেপির তৃণমূলীকরণ বরদাস্ত করা হবে না।’ রাজ্য সভাপতি সাফ জানান, ‘বিজেপির পতাকা নিয়ে কেউ যদি তৃণমূল কংগ্রেসকে আক্রমণ করে, তার দায় এই মুহূর্তে বিজেপি নেবে না। কারণ, এখনও আমরা ক্ষমতায় আসিনি।’ তিনি দাবি করেন, রাজ্যে এই মুহূর্তে যা হিংসা হচ্ছে, তা আদতে তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব। ক্ষমতার রদবদল দেখে যাঁরা দলবদল করতে চাইছেন, তাঁদের জন্য দরজা বন্ধ। শমীক বলেন, ‘কিছু নব্য বিজেপি দেখা যাচ্ছে। এঁদের আমরা বিজেপিতে ঢুকতে দেব না। অনেকে নিজেদের রক্ত-ঘাম দিয়ে বিজেপিকে তৈরি করেছেন। এই পার্টির তৃণমূলীকরণ আমি হতে দেব না।’ তাঁর কড়া হুঁশিয়ারি, ‘বিজেপির যত বড় নেতাই হোন, কেউ এ রকম করলে তাঁকে আমরা অ্যারেস্ট করাব। ছবি দিন, নাম দিন। আমি কথা দিচ্ছি ব্যবস্থা নেব। নইলে আমি সভাপতির পদ থেকে চলে যাব।’ আপাতত রবি-প্রণামের দিনেই বাংলার রাজপাটে নতুন সূর্যের অপেক্ষায় বিজেপি। প্রধানমন্ত্রী মোদীর সোমবারের ভাষণের রেশ টেনেই বিজেপি বুঝিয়ে দিতে চাইছে, পশ্চিমবঙ্গ জয়ের রাজনৈতিক তাৎপর্য আসলে কতটা সুদূরপ্রসারী। ছবি সংগৃহিত ।
প্রধানমন্ত্রী পদে শপথ নিচ্ছেন তারেক, শপথের দিনই রূপ দেখাচ্ছে বিরোধীরা!