নয়া জামানা, কলকাতা : অনুমতি ছাড়াই নিউ মার্কেট এলাকায় বুলডোজার নিয়ে বিজয় মিছিল করার অভিযোগে আট জনকে গ্রেফতার করল পুলিশ। বুধবার বিকেলেই চার জন ধরা পড়েছিলেন, সন্ধ্যায় আরও চার জনের গ্রেফতারির খবর মেলে। ধৃতদের বিরুদ্ধে যথাযথ ধারায় এফআইআর রুজু করেছে নিউ মার্কেট থানার পুলিশ। ওই এলাকায় বিজেপির বিজয় মিছিলের অনুমতি থাকলেও যন্ত্রদানব নিয়ে নামার কোনও ছাড়পত্র ছিল না বলে লালবাজার সূত্রে খবর। ভিডিয়ো ফুটেজ খতিয়ে দেখেই অভিযুক্তদের শনাক্ত করা হয়েছে। এই মুহূর্তে পুলিশ বুলডোজারের মালিক ও চালকের সন্ধানে তল্লাশি চালাচ্ছে। বুধবার লালবাজারে সাংবাদিক বৈঠকে পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দ স্পষ্ট জানান, জেসিবি নিয়ে কোনও মিছিল করা যাবে না। যারা এগুলি ভাড়ায় দিচ্ছে, সেই মালিকদের বিরুদ্ধেও আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। ভবানী ভবন থেকে রাজ্য পুলিশের ভারপ্রাপ্ত ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্তও সাধারণ মানুষকে এই বিষয়ে সতর্ক করেছেন। ঘটনার সূত্রপাত মঙ্গলবার। তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন সমাজমাধ্যমে নিউ মার্কেটের একটি ভিডিয়ো পোস্ট করে লেখেন, ‘মধ্য কলকাতায় নিউ মার্কেটের কাছে, পুলিশের অনুমতিসাপেক্ষেই, মাংসের দোকান ভাঙতে বুলডোজার আনা হয়েছে। জয়ের উদ্যাপন হিসাবেই তা করা হয়েছে। সিএপিএফ কাছেই দাঁড়িয়ে ছিল। আপনাদের জন্য বিজেপি। সারা দুনিয়া দেখুক এই ছবি।’পুলিশ অবশ্য জানিয়েছে, মিছিলের অনুমতি থাকলেও বুলডোজার ব্যবহারের নিয়ম ভাঙা হয়েছে। কোনও ভাঙচুরের খবর মেলেনি। তবে বিনা অনুমতিতে জেসিবি নামানোয় কড়া অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন। এক পুলিশ আধিকারিকের কথায়, ‘আমরা আইনি পদক্ষেপ করছি। ভাঙচুর করার কোনও খবর নেই। বিষয়টি পুলিশ দেখছে।’ ঘটনার তদন্ত জারি রয়েছে। অভিযুক্তদের খোঁজে বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চলছে। শহর কলকাতায় আইনশৃঙ্খলার প্রশ্নে কোনও আপস করতে নারাজ লালবাজার। এই গ্রেফতারির জেরে রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। শহরের বুকে বুলডোজার সংস্কৃতি রুখতে তৎপর পুলিশ প্রশাসন। সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে কড়া বার্তা দিয়েছেন খোদ পুলিশ কমিশনার। সব মিলিয়ে নিউ মার্কেটের ওই ঘটনা এখন আইনি লড়াইয়ের মোড় নিয়েছে। ছবি সংগৃহিত।