নয়া জামানা, কলকাতা : রাজ্যে ক্ষমতার হাতবদল হতেই দিকে দিকে আছড়ে পড়ছে ভোট-পরবর্তী হিংসার ঢেউ। তৃণমূল জমানার অবসান ঘটিয়ে বিজেপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও বাংলা জুড়ে শুরু হয়েছে তাণ্ডব। আগামী ৯ মে নতুন সরকার ও মুখ্যমন্ত্রীর শপথ গ্রহণের আগেই দোকানপাটে হামলা থেকে নাম বদল কিংবা বুলডোজার রাজনীতির নির্লজ্জ দাপট দেখা যাচ্ছে বিভিন্ন প্রান্তে। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে রাজ্যে আইনের শাসন কার্যকর করার জোরালো দাবি তুললেন সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। বিরোধীদের অভিযোগ, হামলা ও মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশ থেকে কেন্দ্রীয় বাহিনী— সকলেই নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে। মহম্মদ সেলিমের অভিযোগ, ফল প্রকাশের অব্যবহিত পরেই বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকার ওপর আক্রমণ নামিয়ে এনেছে। তাঁর দাবি, শাসক শিবিরের নেতারা কেবল মৌখিক বিবৃতি দিয়েই দায় ঝাড়ছেন। মুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জে লেনিন মূর্তিতে আঘাত থেকে শুরু করে বাম নেতাদের প্রতিকৃতি ভাঙচুর কিংবা পার্টি অফিস দখলের ঘটনায় সেলিম ২০১১ সালের তৃণমূলী সংস্কৃতির ছায়া দেখতে পাচ্ছেন। তাঁর সাফ কথা, ‘এই কাজে রাতারাতি রাজনৈতিক রং বদলানো কিছু তৃণমূলী দুষ্কৃতীদের অগ্রণী ভূমিকায় দেখা যাচ্ছে।’ সেলিম আরও জানান, সর্বত্র সাধারণ মানুষ ও বাম কর্মীরা এই স্বৈরাচারী আস্ফালনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াচ্ছেন। আরএসএস পরিচালিত বিজেপির বিরুদ্ধে ‘উগ্র হিন্দুত্ববাদী বুলডোজার রাজনীতি’ আমদানির অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ‘ঘৃণার মতাদর্শে চালিত হয়ে ইতিমধ্যে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বাসস্থান, উপাসনালয়, খাদ্যাভ্যাসের উপর আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে।’ এদিকে আইনি পথে এই হিংসা দমনের আর্জি জানিয়েছে বামপন্থী আইনজীবী সংগঠন ‘আইলাজ’। সংগঠনের জাতীয় কাউন্সিল সদস্য কুনাল বক্সির বাড়িতে হামলার ঘটনায় ক্ষুব্ধ আইনজীবী মহল। দিবাকর ভট্টাচার্যের দাবি, কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি যেন এই বেআইনি কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করেন। ঘরছাড়া ও আক্রান্তদের পাশে দাঁড়িয়ে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ডাক দিয়েছেন আইনজীবীরা। সব মিলিয়ে শপথের আগেই অশান্তি রুখতে এখন বড় পরীক্ষা প্রশাসনের সামনে। ফাইল ফটো।
|| সিপিএম || সেলিম ||
একূল-ওকূল হারিয়ে অকূল পাথারে সেলিম, শূন্যের গেরো কাটাতে এবার মিম-ই কি ভরসা?