নয়া জামানা:কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের খসড়া তালিকা প্রকাশের পর এ বার শুরু হয়েছে দাবি ও আপত্তি জানানোর পর্ব। আসন্ন পুরভোটের আগে মহানগরের এই ভৌগোলিক রূপান্তর প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। খসড়া প্রস্তাব অনুযায়ী, বর্তমান ১৪৪টি ওয়ার্ডের সংখ্যা বাড়িয়ে ২০৯টি করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, অর্থাৎ নতুন যুক্ত হচ্ছে ৬৫টি ওয়ার্ড।সীমানা পরিবর্তনের প্রক্রিয়ায় বর্তমান ৫৮টি ওয়ার্ড ভেঙে গড়া হচ্ছে ১২৩টি নতুন ওয়ার্ড। বাকি ৮৬টি ওয়ার্ড সরাসরি ভাঙা না হলেও সার্বিক পুনর্বিন্যাসের জেরে তাদের সীমানা ও পরিচিতিও বদলে যাবে। মূল লক্ষ্য ভোটার সংখ্যায় সামঞ্জস্য আনা-প্রতিটি ওয়ার্ডে আনুমানিক ১৫ থেকে ১৮ হাজার ভোটার রাখার ভিত্তিতেই এলাকাগুলি নতুন করে সাজানো হচ্ছে।নতুন সীমানা নিয়ে আপত্তি বা পরামর্শ খতিয়ে দেখতে শনিবার থেকে আনুষ্ঠানিক শুনানি শুরু হয়েছে, যা চলবে ৯ তারিখ পর্যন্ত। প্রথম দিনেই ব্যাপক তৎপরতা দেখা গিয়েছে। শুনানি সেরে বেরিয়ে আসেন প্রদেশ কংগ্রেসের প্রতিনিধিরা, আবার অশোক সিনহার নেতৃত্বে চার সদস্যের প্রতিনিধিদল নিয়ে অংশ নেয় বিজেপি। রাজনৈতিক নেতৃত্বের পাশাপাশি নিজেদের এলাকা নিয়ে মতামত জানাতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে হাজির হচ্ছেন সাধারণ বাসিন্দারাও।আইন অনুযায়ী ওয়ার্ড সংখ্যা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত রাজ্য সরকারের, তবে সীমানা পুনর্বিন্যাস ও সংরক্ষণ কার্যকর করার দায়িত্ব রাজ্য নির্বাচন কমিশনের। এক্ষেত্রে কমিশনের ভূমিকা এখনও স্পষ্ট না হওয়ায় প্রশ্ন তুলেছে বিরোধীরা। ২২ অগস্ট পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর কলকাতা মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন অ্যাক্ট, ১৯৮০-র দ্বিতীয় তফসিল সংশোধনের ভিত্তিতে এই খসড়া প্রকাশ করে। নাগরিকদের ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মিউনিসিপ্যাল কমিশনারের কাছে আপত্তি জমা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।