নয়া জামানা ডেস্ক : রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকারের আনুষ্ঠানিক সূচনা হল শনিবার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর সঙ্গে মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল, নিসীথ প্রামাণিক, অশোক কীর্তনিয়া এবং খুদিরাম টুডু। রাজ্যপাল আর. এন. রবি তাঁদের শপথবাক্য পাঠ করান।
জানা গিয়েছে, বাকি মন্ত্রীদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান আগামী সোমবার লোকভবনে অনুষ্ঠিত হবে। এরপর নবগঠিত মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। বুধবার রাজ্যের নবনির্বাচিত বিধায়কদের শপথগ্রহণ পর্ব সম্পন্ন হবে।
শনিবারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে বিশেষ তাৎপর্য দেখা যাচ্ছে। নতুন মন্ত্রিসভার প্রথম দফাতেই বিভিন্ন অঞ্চল ও সামাজিক গোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব তুলে ধরার চেষ্টা করেছে বিজেপি বলে মত রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।
বাংলায় বিজেপির সংগঠন বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেওয়া দিলীপ ঘোষের মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্তি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। রাজ্য সভাপতি হিসেবে তাঁর নেতৃত্বে বিজেপির সাংগঠনিক শক্তি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছিল। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপই তাঁকে মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ জায়গা দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, আসানসোল দক্ষিণ কেন্দ্রের বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পলকে মন্ত্রী করায় শিল্পাঞ্চল ও মহিলা নেতৃত্ব—দুই ক্ষেত্রেই রাজনৈতিক বার্তা স্পষ্ট হয়েছে বলে মত বিশ্লেষকদের। আন্দোলনমুখী নেত্রী হিসেবেও রাজ্য রাজনীতিতে পরিচিত অগ্নিমিত্রা।
উত্তরবঙ্গের প্রতিনিধি হিসেবে নিশীথ প্রামাণিককে মন্ত্রিসভায় স্থান দেওয়া হয়েছে। বনগাঁ উত্তর কেন্দ্রের বিধায়ক অশোক কীর্তনিয়াকে মন্ত্রী করায় মতুয়া সম্প্রদায়ের প্রতি বিশেষ গুরুত্বের ইঙ্গিত দেখছে রাজনৈতিক মহল। পাশাপাশি জঙ্গলমহল ও কুড়মি সমাজের প্রতিনিধিত্ব তুলে ধরতে ক্ষুদিরাম টুডুকে মন্ত্রী করা হয়েছে বলেও মনে করা হচ্ছে। তিনি সাঁওতালি ভাষায় শপথ গ্রহণ করেন।
তবে নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের মধ্যে কে কোন দপ্তরের দায়িত্ব পাচ্ছেন, তা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি। সেই দিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।