রামকৃষ্ণ দাস, নয়া জামানা, উত্তর দিনাজপুর: উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জ আজ গর্বে উজ্জ্বল। ২০২৬ সালের মাধ্যমিক পরীক্ষায় ৭০০-র মধ্যে ৬৯৮ নম্বর পেয়ে রাজ্যে প্রথম স্থান অধিকার করেছে রায়গঞ্জ সারদা বিদ্যামন্দিরের ছাত্র অভিরূপ ভদ্র। এই অসামান্য সাফল্যের পিছনে রয়েছে কঠোর অধ্যবসায়, লক্ষ্যপূরণের অদম্য ইচ্ছাশক্তি এবং এক মায়ের অক্লান্ত সংগ্রামের গল্প। মেধা তালিকার শীর্ষে নিজের নাম দেখে এখনও কিছুটা অবিশ্বাসে অভিরূপ। তবে তার সাফল্যের রহস্য জানতে চাইলে সে জানায়, পড়াশোনার ক্ষেত্রে কখনও নিজেকে নির্দিষ্ট সময়ের গণ্ডিতে বেঁধে রাখেনি। ঘড়ি ধরে পড়ার বদলে প্রতিদিনের জন্য আলাদা লক্ষ্য ঠিক করত সে। আগের রাতেই পরিকল্পনা করে নিত, পরের দিন কোন কোন বিষয় শেষ করবে। সেই লক্ষ্য পূরণ না হওয়া পর্যন্ত চলত পড়াশোনা। অভিরূপ জানায়, আমি কখনও ঘণ্টা গুনে পড়িনি। বরং প্রতিদিন নিজের জন্য একটা টার্গেট ঠিক করতাম। সেটা পূরণ করাই ছিল আমার একমাত্র লক্ষ্য। ভালো ফলের আশা ছিল, কিন্তু রাজ্যে প্রথম হব—এটা ভাবিনি। এই সাফল্যের পথ মোটেই সহজ ছিল না।ছোটবেলাতেই বাবাকে হারিয়েছে অভিরূপ। তারপর থেকে মা-ই হয়ে উঠেছেন তার জীবনের প্রধান শক্তি। সংসারের দায়িত্ব সামলানোর পাশাপাশি ছেলের পড়াশোনার প্রতি নজর রাখা, তাকে মানসিকভাবে অনুপ্রাণিত করা—সবটাই একা হাতে করেছেন তিনি। মায়ের কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ে অভিরূপ। তার কথায়, আমার বাবা নেই। মা-ই আমার জীবনের সব। বাইরে চাকরি সামলে বাড়ি ফিরে আমাকে পড়াতেন, আমার সব খোঁজ রাখতেন। আজ আমি যা পেরেছি, সবটাই মায়ের জন্য। রায়গঞ্জ সারদা বিদ্যামন্দিরের প্রধান আচার্য চিরঞ্জিত মণ্ডল বলেন অভিরূপ বরাবরই অত্যন্ত মেধাবী ও পরিশ্রমী ছাত্র। ওর মধ্যে শেখার আগ্রহ এবং আত্মনিয়ন্ত্রণ ছিল অসাধারণ। আজ ওর এই সাফল্যে আমরা অত্যন্ত গর্বিত। এই কৃতিত্ব শুধু অভিরূপের নয়, তার মায়ের সংগ্রাম ও বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের নিরলস প্রচেষ্টারও স্বীকৃতি। অভিরূপের এই সাফল্যে খুশির হাওয়া বইছে গোটা রায়গঞ্জ জুড়ে। শিক্ষক-শিক্ষিকা থেকে প্রতিবেশী—সকলেই শুভেচ্ছা ও আশীর্বাদে ভরিয়ে দিচ্ছেন এই কৃতী ছাত্রকে। তার এই সাফল্য আগামী দিনে জেলার অসংখ্য পড়ুয়ার কাছে হয়ে উঠবে অনুপ্রেরণার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
মৃত মায়ের চোখ বিক্রি করল ছেলে, ক্ষুব্ধ জনতার আক্রমণে গোটা পরিবার