নয়া জামানা , মুর্শিদাবাদ : ডোমকল মহকুমার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম ইসলামপুরের ভৈরব ব্রিজ টোল প্লাজায় টানা তিনদিন ধরে বন্ধ রয়েছে টোল আদায়। টোল প্লাজার গেটে ঝুলছে তালা। কোনো যানবাহন থেকেই নেওয়া হচ্ছে না টোল। ঘটনায় একদিকে যেমন সরকারের রাজস্ব আদায় অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে, তেমনই টোল সংগ্রহকারী সংস্থা নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ তুলেছে। অন্যদিকে বিজেপি টোল আদায়ের বৈধতা নিয়েই প্রশ্ন তুলে সরব হয়েছে।
পূর্তদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৪ সালের নভেম্বর মাস নাগাদ ইসলামপুরের ভৈরব ব্রিজে টোল আদায়ের দায়িত্ব দেওয়া হয় বীরভূমের সারাফাত খান নামে একটি এজেন্সিকে। পরে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে সেই বরাতের মেয়াদও বৃদ্ধি করা হয়। পূর্তদপ্তরের দাবি, এখনও পর্যন্ত ওই সংস্থার টোল আদায়ের বৈধ অনুমতি রয়েছে এবং সমস্ত নিয়ম মেনেই সেখানে টোল সংগ্রহ করা হচ্ছিল।
তবে গত ৫ মে পরিস্থিতি বদলে যায়। অভিযোগ, রানিনগর বিধানসভার বিজেপি প্রার্থী রানা প্রতাপ সিংহ রায় তাঁর অনুগামীদের নিয়ে টোল প্লাজায় যান এবং টোল আদায়ের কাগজপত্র দেখতে চান। পরে সেই নথিকে ‘জাল’ বলে দাবি করে টোল আদায় বন্ধ করার নির্দেশ দেন। এরপর থেকেই কার্যত বন্ধ হয়ে যায় টোল সংগ্রহের কাজ।
এজেন্সির মালিক সারাফাত খান জানান, “আমাদের সমস্ত বৈধ কাগজপত্র রয়েছে। কিন্তু কয়েকজন স্থানীয় নেতা ও তাঁদের লোকজন টোল প্লাজায় এসে কর্মীদের ভয় দেখিয়েছেন। তারপর থেকেই কর্মীরা আতঙ্কে রয়েছেন। নিরাপত্তার অভাবেই টোল আদায় আপাতত বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছি।” তাঁর দাবি, প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২৫ হাজার টাকার টোল সংগ্রহ হত। ফলে টোল বন্ধ থাকায় সংস্থার আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে।
এদিকে পূর্তদপ্তরের বহরমপুর ডিভিশন-২ এর এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার বুলবুল ইসলাম বলেন, “বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আনা হয়েছে। সমস্ত বৈধ নথিও প্রশাসনকে দেখানো হয়েছে। নিয়ম মেনেই টোল আদায় করা হচ্ছিল। খুব শীঘ্রই আবার টোল সংগ্রহ শুরু হবে বলে আশা করছি।” যদিও এজেন্সি কেন নিজ উদ্যোগে টোল বন্ধ রেখেছে, সে বিষয়ে মন্তব্য করতে চাননি তিনি।
অন্যদিকে বিজেপি নেতা রানা প্রতাপ সিংহ রায়ের দাবি, টোল আদায়ের জন্য যে অনুমতিপত্র দেখানো হয়েছে, তা বৈধ নয়। তাঁর বক্তব্য, “নথিতে মেমো নম্বর পর্যন্ত নেই। তাই ওই কাগজপত্রকে আমরা বৈধ বলে মনে করি না। অবৈধভাবে টোল আদায় চলতে দেওয়া হবে না। প্রয়োজনে প্রশাসনের দ্বারস্থ হব।”
ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইসলামপুরের ভৈরব ব্রিজ এলাকায় রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। প্রশাসন ও পূর্তদপ্তর পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে উদ্যোগী হলেও কবে ফের টোল আদায় শুরু হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।