বাপ্পা রায়, নয়া জামানা, শিলিগুড়ি : শিলিগুড়িতে একই দিনে রাজনৈতিক আবেগ ও উৎসবের ছবি ধরা পড়ল দুই ভিন্ন ঘটনায়। একদিকে প্রবীণ বিজেপি কর্মী মাখনলাল সরকারকে সম্মান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী, অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রীর শপথ গ্রহণ উপলক্ষে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে উৎসব—দু’টি ঘটনাই শহরের পরিবেশে তৈরি করেছে আলাদা উচ্ছ্বাস।
ডাবগ্রাম এলাকার বাসিন্দা ৯৭ বছর বয়সী প্রবীণ বিজেপি কর্মী মাখনলাল সরকারকে সম্মান জানানোয় তাঁর বাড়িতে ও আশপাশের এলাকায় তৈরি হয় আবেগঘন পরিবেশ। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে জাতীয়তাবাদী রাজনীতি ও সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত এই বর্ষীয়ান কর্মী উত্তরবঙ্গে বিজেপির সংগঠন বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন বলে দলীয় সূত্রে দাবি। জানা যায়, তাঁর রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় আরএসএস-এর মাধ্যমে। পরে জনসংঘ হয়ে ভারতীয় জনতা পার্টিতে যুক্ত হন তিনি। ১৯৮১ সালে অটল বিহারী বাজপেয়ীর সময়ে দার্জিলিং জেলা বিজেপি কমিটি গঠনে নেতৃত্ব দেন এবং সভাপতির দায়িত্বও সামলান।
পরিবার সূত্রে আরও জানা যায়, ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে তিনি একাধিক জাতীয়তাবাদী আন্দোলনে অংশ নেন। ১৯৫২ সালে কাশ্মীরে ত্রিবর্ণ পতাকা উত্তোলনের আন্দোলনে অংশ নিতে গিয়ে গ্রেপ্তার হন। এমনকি দেশাত্মবোধক গান গাওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার হলেও আদালতে ক্ষমা চাইতে অস্বীকার করেছিলেন বলে পরিবারের দাবি। তাঁর বড় ছেলে মনিক সরকার জানান, প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে এই সম্মান তাঁদের পরিবারের কাছে গর্বের মুহূর্ত।
অন্যদিকে, একই দিনে মুখ্যমন্ত্রীর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে শিলিগুড়ি ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে দেখা যায় উৎসবের আবহ। স্থানীয় শক্তিকেন্দ্রের উদ্যোগে সাধারণ মানুষের মধ্যে ঝালমুড়ি বিতরণ করা হয়। কলকাতায় মূল শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান হলেও তার উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে শিলিগুড়ির বিভিন্ন এলাকায়। পথচলতি মানুষ থেকে শুরু করে স্থানীয় বাসিন্দারা আনন্দের সঙ্গে এই আয়োজনে অংশ নেন।
আয়োজকদের বক্তব্য, নতুন সরকারের শপথ গ্রহণকে স্মরণীয় করতেই এই উদ্যোগ। প্রবীণ নেতাকে সম্মান ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে উৎসব—দু’টি ঘটনাই শিলিগুড়ির রাজনৈতিক জীবনে এদিন আলাদা মাত্রা যোগ করল।