দীপঙ্কর দোলাই,নয়া জামানা:সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হলেন শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার নিউ টাউনের বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে নবনির্বাচিত বিধায়কদের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ তাঁর নাম ঘোষণা করেন। নিজের নাম ঘোষণার পর আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন শুভেন্দু; তাঁর চোখ ছলছল করে ওঠে। কৃতজ্ঞতাভরে অমিত শাহর হাত ধরে আগামী পাঁচ বছর বাংলার সেবা করার সংকল্প গ্রহণ করেন তিনি।
শুভেন্দু অধিকারীর এই উত্তরণ আকস্মিক নয়, বরং তাঁর দীর্ঘ লড়াই ও সাম্প্রতিক নির্বাচনী সাফল্যের অনিবার্য পরিণতি। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে তিনি কেবল জয়ীই হননি, বরং নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর—দুই কেন্দ্র থেকেই বিপুল ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে নিয়েছেন। বিশেষত, রাজ্যের বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তাঁর নিজের দুর্গ ভবানীপুরে পরাজিত করে শুভেন্দু প্রমাণ করেছেন যে, তিনিই এই মুহূর্তে বঙ্গ বিজেপির প্রধান মুখ। দিল্লির শীর্ষ নেতৃত্ব তাঁর এই অসামান্য কৃতিত্বকে সম্মান জানিয়েই রাজ্য শাসনের গুরুভার তাঁর কাঁধে অর্পণ করলেন।
২০২০ সালে তৃণমূল কংগ্রেস ত্যাগ করে অমিত শাহর হাত ধরে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। তারপর থেকে গত কয়েক বছরে তিনি দক্ষিণ থেকে উত্তরবঙ্গ চষে বেড়িয়েছেন। বুথ স্তরে সংগঠন শক্তিশালী করা, তৃণমূলের প্রতিপক্ষ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে নিবিড় সমন্বয় বজায় রাখার মাধ্যমে তিনি দলকে এক সুসংহত রূপ দিয়েছিলেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচনে বিজেপির নিরঙ্কুশ সংখ্যা গরিষ্ঠতা পাওয়ার নেপথ্যে শুভেন্দুর রণকৌশল ও পরিশ্রম সবথেকে বড় ভূমিকা পালন করেছে। লড়াকু এই নেতার হাত ধরেই পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হল।
পরিষদীয় দলনেতা নির্বাচিত হওয়ার পর শুভেন্দু অধিকারী এখন রাজ্যপালের কাছে সরকার গঠনের দাবি পেশ করবেন। আগামী শনিবার কলকাতার ঐতিহাসিক ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে আয়োজিত এক মেগা অনুষ্ঠানে নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন তিনি। এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীসহ বিজেপির সর্বভারতীয় নেতৃত্বের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
দীর্ঘ কয়েক দশকের বাম ও তৃণমূল শাসনের পর এই প্রথম কোনও অবিজেপি রাজ্য হিসেবে পরিচিত বাংলায় গেরুয়া শিবিরের শাসন শুরু হচ্ছে। রাজ্যের সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণ এবং আইন-শৃঙ্খলার উন্নয়নই এখন নতুন মুখ্যমন্ত্রীর সামনে সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ। শুভেন্দুর এই জয় কেবল তাঁর ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং বাংলার রাজনীতিতে এক বিশাল পরিবর্তনের ইঙ্গিত।
নাম বাদ গেলে বাড়িতে হামলার আতঙ্ক ,মুর্শিদাবাদে মৃত্যু মহিলা বিএলও-র, চাঞ্চল্যকর অভিযোগ ছেলের