ব্রেকিং
[pj-news-ticker]
  • Home /
  • পশ্চিমবঙ্গ /
  • জনসেবা থেকে প্রশাসন, মানিকচকের রাজনীতির লড়াকু মুখ পল্লবী মন্ডল

জনসেবা থেকে প্রশাসন, মানিকচকের রাজনীতির লড়াকু মুখ পল্লবী মন্ডল

টিনা প্রামাণিক, নয়া জামানা: মালদা জেলার মানিকচক ব্লকের মথুরাপুরের এক ছোট্ট গ্রাম ধনরাজগ্রাম। সেখানে এক সাধারণ পরিবারের কন্যা হিসেবে জন্ম ও বেড়ে ওঠা পল্লবী মন্ডলের। আজ ৩৪ বছর বয়সে এসে তিনি মানিকচকের রাজনীতিতে এক উজ্জ্বল, লড়াকু ও ব্যতিক্রমী নাম। মানিকচক....

জনসেবা থেকে প্রশাসন, মানিকচকের রাজনীতির লড়াকু মুখ পল্লবী মন্ডল

টিনা প্রামাণিক, নয়া জামানা: মালদা জেলার মানিকচক ব্লকের মথুরাপুরের এক ছোট্ট গ্রাম ধনরাজগ্রাম। সেখানে এক সাধারণ....

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
X
Threads
Telegram

আরও পড়ুন


টিনা প্রামাণিক, নয়া জামানা: মালদা জেলার মানিকচক ব্লকের মথুরাপুরের এক ছোট্ট গ্রাম ধনরাজগ্রাম। সেখানে এক সাধারণ পরিবারের কন্যা হিসেবে জন্ম ও বেড়ে ওঠা পল্লবী মন্ডলের। আজ ৩৪ বছর বয়সে এসে তিনি মানিকচকের রাজনীতিতে এক উজ্জ্বল, লড়াকু ও ব্যতিক্রমী নাম। মানিকচক বিধানসভার একমাত্র পরিচিত ও শক্তিশালী মহিলা বিজেপি মুখ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন তিনি। এক রাজনৈতিক পরিবারে জন্ম হওয়ায় খুব ছোটবেলা থেকেই রাজনীতির পরিবেশ তাঁর চেনা। কাকা অজিত মন্ডলের জনসেবামূলক কাজ দেখে পল্লবীর মনে রাজনীতির মাধ্যমে মানুষের সেবা করার স্বপ্ন জন্ম নেয়।

তবে পল্লবীর জনসেবার যাত্রা কিন্তু রাজনীতিতে আসার অনেক আগেই শুরু হয়েছিল। ছোটবেলা থেকেই অন্যান্য আর দশটা সাধারণ বাচ্চার মতো কেবল নিজের কথা ভাবা তাঁর স্বভাব ছিল না। অত্যন্ত সংবেদনশীল মনের অধিকারী পল্লবী যখন পুরানীগ্রাম প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়তেন, তখনই খেয়াল করতেন সহপাঠীদের মধ্যে অনেকে প্রতিদিন টিফিন আনে না এবং সারাদিন না খেয়ে থাকে। শিশুদের এই কষ্ট তাঁকে ভীষণভাবে ব্যথিত করত। বাবার মিষ্টির দোকানের টাকার বাক্স থেকে লুকিয়ে খুচরো টাকা নিয়ে যেতেন তিনি। সেই টাকায় টিফিন কিনে এনে না-খেয়ে থাকা বন্ধুদের মুখে তুলে দিতেন। শৈশবের সেই ছোট্ট আত্মত্যাগ ও নিঃস্বার্থ ভালোবাসাই যেন ভবিষ্যতের এক দূরদর্শী ও দয়ালু সমাজসেবীর পথ তৈরি করে দিয়েছিল।

নিজের গ্রামের স্কুলেই প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করার পর পল্লবী মথুরাপুর তিলক সুন্দরী হাই স্কুলে ভর্তি হন। সেখান থেকেই অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। পরবর্তীতে উচ্চশিক্ষার জন্য বিহার বোর্ডে ভর্তি হন এবং সাফল্যের সাথে বিএ পাস করেন। শিক্ষাজীবন শেষ হওয়ার পরপরই পারিবারিক সম্মতিতে তাঁর বিয়ে হয় এবং সংসার জীবন শুরু হয়।

সংসারের দায়িত্ব সামলানোর পাশাপাশি তাঁর ভেতরে সুপ্ত থাকা জনসেবার ইচ্ছেটা তাঁকে থমকে যেতে দেয়নি। ২০১৮ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে সক্রিয় রাজনীতির ময়দানে পদার্পণ করেন পল্লবী। প্রথমবারই নির্বাচনী লড়াইয়ে নেমে নাজিরপুর-খয়েরতলা এলাকা থেকে বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে মানিকচক পঞ্চায়েত সমিতির মেম্বার নির্বাচিত হন। এটাই ছিল তাঁর জনপ্রতিনিধি হিসেবে রাজনীতির নতুন অধ্যায়।

দক্ষ সাংগঠনিক ক্ষমতার বলে তিনি দ্রুত দলের শীর্ষ নেতৃত্বের আস্থা অর্জন করেন। ২০১৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত অত্যন্ত দক্ষতার সাথে মন্ডল সভানেত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। শুধু দলীয় সংগঠন সামলানোই নয়, সাধারণ মানুষের যেকোনো প্রয়োজনে মাঠ-ময়দানে ছুটে যাওয়ার কারণে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা ক্রমশ বাড়তে থাকে। ২০২১ থেকে ২০২৩ সময়কালে তিনি দক্ষিণ মালদা এসসি মোর্চার সহ-সম্পাদিকার দায়িত্ব সামলান। ২০২৩ সালে তাঁকে দলের মন্ডল সেক্রেটারি করা হয়। রাজনীতির কঠিন মাঠে এক একজন পুরুষ সহকর্মীর পাশাপাশি নিজের স্থান শক্ত করে ২০২৫ সালের শেষভাগে তিনি মানিকচক বিধানসভার মহিলা মোর্চার ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

রাজনীতিতে তাঁর এই ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা ও মানুষের ভালোবাসার প্রতিফলন ঘটে ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনেও। এ বছরও তিনি আবারও বিপুল সমর্থন পেয়ে জয়লাভ করেন এবং দ্বিতীয়বারের জন্য মানিকচক পঞ্চায়েত সমিতির মেম্বার নির্বাচিত হন। তাঁর এই ধারাবাহিক নিষ্ঠা, সততা ও পরিশ্রমের ফলস্বরূপ ২০২৬ সালের আগস্ট মাসে তিনি মানিকচক পঞ্চায়েত সমিতির গুরুত্বপূর্ণ সহ-সভাপতি পদে আসীন হন।

আজ এত বড় প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক পদে অধিষ্ঠিত হয়েও পল্লবী মন্ডল মাটির কাছাকাছি থাকা এক মানুষ। পদ কিংবা মর্যাদা তাঁকে সাধারণ মানুষের থেকে দূরে ঠেলে দিতে পারেনি। জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ব্যক্তিগত ও সামাজিকভাবেও তিনি সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। নিঃশব্দে রক্তদান শিবির যাওয়া, দুস্থ মানুষের জন্য বস্ত্রদান কর্মসূচি পরিচালনা করা সহ সামাজিক কল্যাণমূলক কাজে তিনি সদাতৎপর। যেকোনো বিপদে-আপদে এলাকার মানুষের পাশে ছুটে যাওয়া তাঁর দৈনন্দিন অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। এ পর্যন্ত প্রায় একশো দুস্থ পরিবারের কঠিন সময়ে—পরিবারের কারও মৃত্যুতে কিংবা কন্যাদায়গ্রস্ত বাবার বিয়েতে আর্থিক ও মানসিকভাবে পাশে দাঁড়িয়েছেন পল্লবী।

নিজের এই সফল রাজনৈতিক পথচলা সম্পর্কে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে পল্লবী মন্ডল জানান, পদ পাওয়াটা তাঁর কাছে কোনো উদযাপনের বিষয় নয়, বরং দায়িত্ব আরও বেড়ে যাওয়া। আগামীদিনে সাধারণ মানুষের জন্য আরও ভালো কাজ করতে চান তিনি। মানিকচকের প্রতিটি সাধারণ ও প্রান্তিক মানুষ যাতে সমস্ত সরকারি সুবিধা সঠিকভাবে পান, সেই বিষয়ে তিনি প্রতিনিয়ত নজর রাখবেন এবং সাধারণের অধিকার ছিনিয়ে আনতে সর্বদা সরব থাকবেন।

রাজনৈতিক পরিচয় ছাপিয়ে আজ পল্লবী মন্ডল মানিকচকের প্রতিটি ঘরের মেয়ে, এক লড়াকু সহযোদ্ধা। শৈশবের সেই বাবার মিষ্টির দোকানের খুচরো পয়সা চুরি করে বন্ধুদের টিফিন খাওয়ানো মেয়েটি আজ এক বিশাল অঞ্চলের মানুষের ভরসার আশ্রয়স্থল হয়ে উঠেছেন। মানিকচকের রাজনীতিতে পল্লবীর এই উত্থান কেবল এক রাজনৈতিক নেত্রীর গল্প নয়, এটি এক সাধারণ নারীর অদম্য ইচ্ছাশক্তি, দয়া এবং জনসেবার অনন্য দৃষ্টান্ত।


 

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি:

আজকের খবর