নয়া জামানা: দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে আলাদা পূর্ণাঙ্গ জেলা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে চলেছে শিলিগুড়ি। দার্জিলিং জেলার সমতলের অংশটি কেটে এই নতুন জেলা গঠিত হতে চলেছে। এর সঙ্গে যুক্ত করা হবে জলপাইগুড়ি জেলার ডাবগ্রাম ও ফুলবাড়ির দুটি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা এবং উত্তর দিনাজপুর জেলার কিছুটা অংশ। প্রস্তাবিত শিলিগুড়ি জেলার প্রশাসনিক সীমানা চিহ্নিত করতে ইতোমধ্যে মৌজা ম্যাপ এবং নতুন ভোটার তালিকা তৈরির কাজ দ্রুতগতিতে শুরু করেছে দার্জিলিং জেলা প্রশাসন। নতুন জেলার জেলাশাসকের দফতর ও জেলা আদালত কোথায় স্থাপন করা হবে, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। শহরের কেন্দ্রে থাকা বর্তমান মহকুমা পরিষদ ভবনটিকেই জেলাশাসকের কার্যালয়ে রূপান্তর করার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাহাড়ে নতুন স্বশাসনের বিষয়টি চূড়ান্ত রূপ পেলেই এর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হতে পারে।
ভৌগোলিক ও কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত সংবেদনশীল ‘চিকেনস নেক’ অঞ্চলের প্রশাসনিক নজরদারি ও নিরাপত্তার বলয় মজবুত করাই এই পদক্ষেপের অন্যতম লক্ষ্য। আশির দশকে পাহাড়ের আন্দোলনের প্রেক্ষাপট থেকে শুরু করে পরবর্তী সময়ে ২০০৭-০৮ সালে শিলিগুড়িকে কেন্দ্র করে সমান্তরাল জেলা কাঠামো গড়ে তোলার যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল, তা এবার পূর্ণতা পাচ্ছে। এর আগে শিলিগুড়িতে পৃথক পুলিশ কমিশনারেট তৈরি করা হয়েছিল। জেলা গঠনের এই উদ্যোগে খুশি স্থানীয় বাসিন্দারা। ব্যবসায়ী সংগঠন ‘ফোসিন’ এবং নাগরিক মঞ্চ দীর্ঘদিন ধরে শিলিগুড়িকে আলাদা জেলা ঘোষণার যে দাবি জানিয়ে আসছিল, তা পূরণ হতে চলায় শহরজুড়ে আনন্দ পরিলক্ষিত হচ্ছে।
সম্প্রতি চম্পাসারিতে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠকে দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্তা, শিলিগুড়ির বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ, মাটিগাড়া-নকশালবাড়ির বিধায়ক আনন্দময় বর্মন এবং ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ির বিধায়ক শিখা চট্টোপাধ্যায় উপস্থিত থেকে শিলিগুড়ির প্রশাসনিক পরিকাঠামো নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব দেন। জনসংখ্যা বৃদ্ধির কথা মাথায় রেখে মাটিগাড়া, শিবমন্দির, বাগডোগরা ও ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ির বিস্তীর্ণ অংশকে যুক্ত করে ‘গ্রেটার শিলিগুড়ি’ গঠন অথবা নতুন পুরসভা তৈরির সুপারিশ করা হয়। সাধারণ মানুষকে যাতে ক্ষুদ্র প্রশাসনিক কাজের জন্য বারবার জলপাইগুড়ি ছুটতে না হয়, সেজন্য সমগ্র এলাকার পুলিশি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার পুনর্গঠনের দাবি জানানো হয়।
একই প্রশাসনিক বৈঠক থেকে উত্তরবঙ্গের স্বাস্থ্য পরিষেবার বেহাল দশা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন সাংসদ রাজু বিস্তা। উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে শয্যাসংকটের সমাধান কল্পে অবিলম্বে ১০০টি নতুন বেড চালু করা, চত্বর থেকে দালাল চক্র নির্মূল করা এবং বেসরকারি হাসপাতাল ও নার্সিংহোমগুলির ওপর কড়া সরকারি নজরদারির বার্তা দেওয়া হয়েছে।